গালওয়ান সংঘাতের পর প্রথমবার! ৭ বছর পর ভারতে দেশে পা রাখছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং
জিনপিং শেষ বার ভারতে এসেছিলেন ২০১৯ সালের অক্টোবরে
Truth of Bengal: প্রায় সাত বছর পর ফের ভারতে পা রাখতে চলেছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ব্রিক্স শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে আগামী শনিবার তাঁর নয়াদিল্লি আসার কথা। আর সেই সফর ঘিরেই জোরালো হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও জিনপিঙের সম্ভাব্য দ্বিপাক্ষিক বৈঠক নিয়ে জল্পনা। একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রিক্স সম্মেলনের প্রথম দিনেই দুই রাষ্ট্রনেতার বৈঠক হতে পারে। বৈঠকের বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত হলেও এখনও নয়াদিল্লি বা বেজিংয়ের তরফে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। জিনপিং শেষ বার ভারতে এসেছিলেন ২০১৯ সালের অক্টোবরে। তার পরের বছরই পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা নিয়ে ভারত ও চিনের সেনার মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় এক কর্নেল-সহ ২০ জন ভারতীয় জওয়ান নিহত হন। চিন সরকারি ভাবে চার সেনার মৃত্যুর কথা স্বীকার করলেও বিভিন্ন সূত্রে চিনের আরও বেশি সেনা হতাহতের দাবি সামনে এসেছিল।
গালওয়ান সংঘর্ষের পর থেকেই নয়াদিল্লি-বেজিং সম্পর্কের অবনতি শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের সময়ও চিনকে প্রকাশ্যে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়াতে দেখা যায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কিছু ইঙ্গিত মিলেছে। ২০২৪ সালে রাশিয়ার কাজানে মোদী ও জিনপিঙের বৈঠক হয়েছিল। তার পর থেকেই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বরফ গলতে শুরু করার বার্তা মিলতে থাকে। ২০২৫ সালের অগস্টের শেষে চিনের তিয়ানজিনে এসসিও শীর্ষ বৈঠকের ফাঁকে ফের মুখোমুখি বৈঠক করেন দুই নেতা। এ বার জিনপিঙের দিল্লি সফরকে সেই প্রক্রিয়ারই পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের দাবি, প্রায় সাত বছর পর চিনা প্রেসিডেন্টের ভারত সফর নয়াদিল্লি-বেজিং সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন করে কূটনৈতিক সমঝোতার দরজা খুলে দিতে পারে।
-
শেষ মুহূর্তে বদল টার্গেট, লালকেল্লা বিস্ফোরণে নয়া তথ্যSeptember 10, 2026
-
অজয় রাই নয়, উত্তরপ্রদেশে যোগীর বিপক্ষে মুসলিম মুখের ভাবনা কংগ্রেসেরSeptember 10, 2026
ব্রিক্স শীর্ষ সম্মেলনের আগে শুক্রবারই দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক করার কথা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ জানিয়েছেন, দুই রাষ্ট্রনেতার আলোচনায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে পরমাণু সহযোগিতা, প্রস্তাবিত সুখোই এসইউ-৫৭ যুদ্ধবিমান এবং রুশ অশোধিত তেলের উপর মার্কিন শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞা। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে বসছে ব্রিক্সের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন। এর আগে ২০১২, ২০১৬ এবং ২০২১ সালে ব্রিক্সের আয়োজক ও সভাপতি রাষ্ট্র হয়েছিল ভারত। এ বার নিয়ে চতুর্থবারের জন্য সেই দায়িত্ব পেল নয়াদিল্লি।
এ বারের সম্মেলনের মূল ভাবনায় রয়েছে উদ্ভাবন, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সুস্থিতি বৃদ্ধি। তবে সম্মেলনের পাশাপাশি একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও কূটনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চলেছে। বিদেশ মন্ত্রকের একটি সূত্রের দাবি, ব্রিক্সের পার্শ্ববৈঠকে মোদী ও জিনপিঙের মধ্যে শুধু আন্তর্জাতিক বিষয় নয়, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়েও আলোচনা হতে পারে। এ দিকে রয়টার্স জানিয়েছে, জিনপিঙের সফর ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে নয়াদিল্লিতে অবস্থিত চিনা দূতাবাস। হোটেল থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা—সব কিছু চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। ফলে ব্রিক্স সম্মেলনের মঞ্চে শি জিনপিংয়ের উপস্থিতির পাশাপাশি মোদী-জিনপিং বৈঠকই যে নজরের কেন্দ্রে, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে আগ্রহ তুঙ্গে।






