দেশ

সংসার টানতে ৪৪ শতাংশ শিশু-কিশোর স্কুলছুট দেশে

বৃহস্পতিবার ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের আর্থিক সমীক্ষা সংসদে পেশ করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।

Truth Of Bengal: দেশের শিক্ষা পরিস্থিতি নিয়ে হতাশাজনক চিত্র সামনে এল। গোটা দেশে স্কুলছুট পড়ুয়ার সংখ্যা বাড়ছে। স্কুলছুট প্রায় ৪৪ শতাংশ শিশু-কিশোর। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের আর্থিক সমীক্ষার রিপোর্টে উঠে এসেছে এই তথ্য। সংসদে রিপোর্ট পেশ করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। কেন্দ্রীয় সরকারের শিক্ষানীতি এর জন্য দায়ী বলে মত বিরোধীদের। সমীক্ষায় প্রকাশ, আর্থিক চাপে স্কুলছুটের সংখ্যা বাড়ছে।

বৃহস্পতিবার ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের আর্থিক সমীক্ষা সংসদে পেশ করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। সেই রিপোর্টেই এর উল্লেখ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট আর্থিক সমীক্ষাতেই জানানো হয়েছে, দেশের আট শতাংশ শিশু-কিশোর ‘শিক্ষাকেই অপ্রয়োজনীয়’ বলে মনে করছে। তাই শিক্ষা শেষ করার আগেই তারা স্কুলের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করছে। শিক্ষার এই কঙ্কালসার চিত্র সামনে আসার পর চিন্তায় শিক্ষা সমাজ। যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে কড়া হচ্ছে।

সংসদে পেশ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের আর্থিক সমীক্ষায় উঠে এসেছে, দেশের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের কাছে শিক্ষা আর অগ্রাধিকার নয়। মূল্যবৃদ্ধির চাপে সংসার সামলাতে গিয়ে স্কুল ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে বহু পড়ুয়া। শুধু রোজগার নয়, ঘরের কাজকর্মে হাত লাগাতেও পড়াশোনা ছাড়তে হচ্ছে অনেককে। সমীক্ষা অনুযায়ী, গৃহকর্মে সহায়তার জন্য ২৮ শতাংশ শিশু-কিশোর বিদ্যালয় ছেড়েছে। আরও উদ্বেগজনক তথ্য, আট শতাংশ কিশোর-কিশোরীর ধারণা, শিক্ষার কোনও প্রয়োজনই নেই। এই মানসিকতা থেকেই তারা স্থায়ীভাবে স্কুলছুট হচ্ছে।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষের শ্রম সংক্রান্ত সমীক্ষার তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই এই চিত্র সামনে এসেছে। শিক্ষার প্রতি অনীহা ও আর্থিক চাপ— দুইয়ের মিলিত প্রভাবেই বাড়ছে স্কুলছুটের হার।

পরিস্থিতি সামাল দিতে আর্থিক সমীক্ষায় কিছু দিশাও দেখানো হয়েছে। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বিদ্যালয় স্তরে পেশাভিত্তিক ও দক্ষতা-বৃদ্ধিমূলক শিক্ষার উপর জোর বাড়ানো প্রয়োজন। তবে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সি মাত্র ০.৯৭ শতাংশ পড়ুয়া এমন প্রশিক্ষণের সুযোগ পেয়েছে। এই পরিস্থিতি শুধু শিক্ষাব্যবস্থার নয়, সমাজের ভবিষ্যতের জন্যও বড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। শিক্ষা থেকে এই বড় অংশ মুখ ফেরানোয় দেশের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাচ্ছে ভেবে আতঙ্কিত ওয়াকিবহাল মহল।

গোটা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার এমন উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এলেও পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে এই তথ্য অত্যন্ত ইতিবাচক। উদ্বেগের কিছু নেই। রাজ্যে পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্কুল শিক্ষার সার্বিক উন্নতিতে একাধিক প্রকল্প গ্রহণ করেন। বিশেষ নজর দেওয়া হয় স্কুলছুট কমিয়ে আরও বেশি পড়ুয়াকে স্কুলমুখী করার। সেই জন্য প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত রাজ্যে পড়ুয়াদের জন্য একাধিক প্রকল্প চালু করেছে রাজ্য সরকার। যে সব প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছে রাজ্যের প্রতিটি পড়ুয়া। দেখা গিয়েছে, এইসব প্রকল্পের দৌলতে রাজ্যে স্কুলছুটের হার নেই বললেই চলে। বাড়ছে পড়ুয়ার সংখ্যা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইতিবাচক ভাবনায় রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা যখন দিশা দেখাতে পারছে, তখন ঠিক উল্টো ছবি উঠে এল দেশের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে। যা অত্যন্ত উদ্বেগের বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।