Truth of Bengal: অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার (এএসডি) চিকিৎসায় স্টেম সেল থেরাপিকে কোনওভাবেই রোগীর অধিকার হিসেবে দাবি করা যায় না—এই মর্মে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার এই সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা ও বিচারপতি আর মহাদেবনের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এএসডি চিকিৎসায় স্টেম সেল থেরাপি নিয়মিত বা স্বীকৃত ক্লিনিক্যাল চিকিৎসা হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। আদালতের মতে, এই ধরনের বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণহীন চিকিৎসা প্রয়োগ করলে তা চিকিৎসাগত গাফিলতি ও পেশাগত অসদাচরণের আওতায় পড়তে পারে। শুনানিকালে আদালত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নেরও নিষ্পত্তি করে—রোগী যদি নিজের ইচ্ছায় কোনও নির্দিষ্ট চিকিৎসা নিতে চান এবং তাতে সম্মতি দেন, তা হলে কি সেই চিকিৎসা দেওয়া যায়? এই প্রসঙ্গে শীর্ষ আদালতের স্পষ্ট বক্তব্য, কোনও চিকিৎসা সম্পর্কে পর্যাপ্ত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য না থাকলে, রোগী সেই চিকিৎসা অধিকার হিসেবে দাবি করতে পারেন না। আদালতের ভাষায়, চিকিৎসা গ্রহণের ক্ষেত্রে রোগীর সম্মতি তখনই বৈধ হয়, যখন তা পর্যাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দেওয়া হয়। এই প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট ২০০৮ সালের Samira Kohli বনাম Dr. Prabha Manchandra মামলার রায়ের উল্লেখ করে। সেই রায়ে বলা হয়েছিল, কোনও চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণের আগে রোগীকে পর্যাপ্ত তথ্য জানানোই সম্মতির মূল ভিত্তি। এর মধ্যে চিকিৎসার প্রকৃতি ও পদ্ধতি, তার উদ্দেশ্য ও সম্ভাব্য উপকারিতা, বিকল্প চিকিৎসার সুযোগ, গুরুতর ঝুঁকির সম্ভাবনা এবং চিকিৎসা না নিলে কী পরিণতি হতে পারে—এই সব তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকা আবশ্যক।
আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অটিজম চিকিৎসায় স্টেম সেল থেরাপির ক্ষেত্রে এই ‘পর্যাপ্ত তথ্য’-এর মানদণ্ড পূরণ হয় না। ফলে এই চিকিৎসা নিয়ে সম্মতি দিলেও তা বৈধ সম্মতি হিসেবে গণ্য করা যায় না। বিচারপতিরা জানান, এই ধরনের অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে রোগীরা ভুল ধারণার মধ্যে থাকতে পারেন এবং পরীক্ষামূলক চিকিৎসা থেকে নিয়মিত চিকিৎসার মতো ফল প্রত্যাশা করতে পারেন। আদালতের মতে, এমন ভ্রান্ত ধারণার মধ্যে থেকেও চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া চিকিৎসা নীতির গুরুতর লঙ্ঘন। সুপ্রিম কোর্ট আরও স্পষ্ট করেছে, রোগী স্বেচ্ছায় এই ধরনের চিকিৎসা গ্রহণে আগ্রহী হলেও, পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক তথ্যের অভাবে সেই সিদ্ধান্তকে বৈধ সম্মতি বলা যায় না। তবে আদালত জানিয়েছে, রোগীরা চাইলে অনুমোদিত ও নিয়ন্ত্রিত ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে অংশগ্রহণ করতে পারেন। এই মামলার শুনানিতে চিকিৎসা মহলের উদ্দেশে কড়া বার্তাও দিয়েছে শীর্ষ আদালত। বিচারপতিরা জানান, যে সব চিকিৎসক বা ক্লিনিক বৈজ্ঞানিকভাবে অপ্রমাণিত বা অনুমোদনহীন চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করছেন, তা স্পষ্টতই চিকিৎসাগত গাফিলতির শামিল। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনের সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ধরনের অনিয়ন্ত্রিত চিকিৎসা রুখতে কেন্দ্রীয় সরকারের সময়োচিত পদক্ষেপের অভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আদালত। বিশেষ করে শিশু রোগীদের ক্ষেত্রে এই ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছে বেঞ্চ।
উল্লেখ্য, অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার (এএসডি) চিকিৎসায় স্টেম সেল থেরাপি ব্যবহারের একটি মামলার শুনানিতে এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেছে আদালত। এক প্রতিবেদনের সূত্রে জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে শীর্ষ আদালত। এমন পরীক্ষামূলক চিকিৎসা রুখতে সময়মতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন বিচারপতিরা। আদালতের মতে, এ ধরনের নিয়ন্ত্রণহীন চিকিৎসা বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে। বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং আর মহাদেবনের বেঞ্চ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, অটিজমের চিকিৎসায় স্টেম সেল থেরাপি কোনওভাবেই অনুমোদিত ক্লিনিক্যাল চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহার করা যায় না। আদালতের পর্যবেক্ষণ, স্টেম সেলকে ড্রাগস অ্যান্ড কসমেটিকস অ্যাক্ট, ১৯৪০ অনুযায়ী ‘ড্রাগ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও, শুধুমাত্র সেই কারণেই তা রোগীর উপর প্রয়োগযোগ্য হয়ে ওঠে না। আদালত আরও জানিয়েছে, যে কোনও চিকিৎসা পদ্ধতির ক্ষেত্রে তার নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিয়ে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ থাকা আবশ্যক। পর্যাপ্ত গবেষণা ও ক্লিনিক্যাল স্বীকৃতি ছাড়া কোনও চিকিৎসাকে নিয়মিত চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহার করা যায় না, বিশেষত যখন স্বীকৃত চিকিৎসা সংস্থা বা বিশেষজ্ঞ মহল সেই চিকিৎসার বিরোধিতা করেছে।
প্রসঙ্গত, শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, অনুমোদিত এবং নিয়ন্ত্রিত ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের বাইরে অটিজম নিরাময়ে স্টেম সেল থেরাপির প্রয়োগ ‘অনৈতিক’ এবং এটি চিকিৎসায় গাফিলতি বা ‘মেডিক্যাল ম্যালপ্র্যাকটিস’ হিসেবে গণ্য হবে। বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি আর মহাদেবনের ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অটিজমের চিকিৎসায় স্টেম সেল থেরাপির কার্যকারিতার স্বপক্ষে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ বা তথ্য নেই। ফলে এটি কোনোভাবেই স্বীকৃত চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে না। আদালত জানিয়েছে, ড্রাগস অ্যান্ড কসমেটিকস অ্যাক্ট, ১৯৪০-এর অধীনে স্টেম সেলকে ‘ওষুধ’ হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করার অর্থ এই নয় যে, এটি অটিজম চিকিৎসায় সরাসরি ব্যবহার করা যাবে।






