ICICI Vodafone: সিম সোয়াপ প্রতারণায় গাফিলতির দায়ে ICICI ও Vodafone Idea-কে মোটা জরিমানা
সিম সোয়াপ (SIM Swap) পদ্ধতি ব্যবহার করে গুজরাটের একটি ট্রেডিং ফার্মের অ্যাকাউন্ট থেকে ১ কোটি ১৯ লক্ষ টাকা লোপাট হওয়ার ঘটনায় এই দুই সংস্থাকে মোটা অঙ্কের জরিমানা করা হয়েছে।
Truth of Bengal: একটি চাঞ্চল্যকর সাইবার প্রতারণার মামলায় গাফিলতির দায়ে তথ্য প্রযুক্তি আইন (Information Technology Act, 2000)-এর অধীনে কড়া শাস্তির মুখে পড়ল দেশের অন্যতম প্রধান বেসরকারি ব্যাঙ্ক আইসিআইসিআই ব্যাঙ্ক (ICICI Bank) এবং টেলিকম সংস্থা ভোডাফোন-আইডিয়া (Vodafone-Idea)। সিম সোয়াপ (SIM Swap) পদ্ধতি ব্যবহার করে গুজরাটের একটি ট্রেডিং ফার্মের অ্যাকাউন্ট থেকে ১ কোটি ১৯ লক্ষ টাকা লোপাট হওয়ার ঘটনায় এই দুই সংস্থাকে মোটা অঙ্কের জরিমানা করা হয়েছে। আইসিআইসিআই ব্যাঙ্ক: ১০ লক্ষ টাকা। ভোডাফোন-আইডিয়া: ৫ লক্ষ টাকা।
২০২৩ সালে এই অনলাইন প্রতারণার শিকার হয় গুজরাটের ওই ট্রেডিং সংস্থা। সংস্থার ডিরেক্টর প্রকাশ মেহতা ভিয়েতনামে থাকার সময় এই ঘটনা ঘটে। ১১ মার্চ প্রকাশ মেহতার কাছে সিম সোয়াপের জন্য একটি মেইল আসে। এই নম্বরটিই ছিল তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে লিঙ্ক করা, যেখানে লেনদেনের জন্য ওটিপি (OTP) আসত। কোনো প্রকার ভেরিফিকেশন (যাচাইকরণ) ছাড়াই ভোডাফোন-আইডিয়া সিম সোয়াপের অনুরোধটি গ্রহণ করে এবং ওই দিন বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে নতুন সিম অ্যাক্টিভেট করে দেয়। অফিস বন্ধ থাকার দিন (রবিবার) প্রতারকরা নকল সিমটি ব্যবহার করে ২২ বার লেনদেন করে। তারা RTGS এবং NEFT-এর মাধ্যমে আইসিআইসিআই ব্যাঙ্কের ওভারড্রাফ্ট অ্যাকাউন্ট থেকে মোট ১ কোটি ১৯ লক্ষ ৩৭ হাজার টাকা তুলে নেয়। পরের দিন, প্রতারণার বিষয়ে জানতে পেরে প্রকাশ মেহতা ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং সাইবার ক্রাইম পুলিশ স্টেশনে অভিযোগ দায়ের করেন।
তথ্য প্রযুক্তি আইন ২০০০-এর ৪৩ এবং ৪৩এ ধারায় এই মামলাটি দায়ের করা হয়। পুলিশি তদন্তে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, অপরাধীরা সিম সোয়াপ পদ্ধতি ব্যবহার করে ওটিপি (OTP) সিকিউরিটিকে ফাঁকি দিয়েছিল। এর ফলে আসল গ্রাহকের কাছে লেনদেনের কোনো ওটিপিই আসেনি। ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নির্দেশিকা অনুযায়ী সমস্ত ভেরিফায়েড পাসওয়ার্ড, ওটিপি, এমপিন দিয়েই লেনদেন সম্পন্ন হয়েছিল, তাই সন্দেহ করার কোনো কারণ ছিল না। যদিও পরে ব্যাঙ্কটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত করে এবং টাকা যাওয়া অ্যাকাউন্টগুলি বন্ধ করে দেয়।
ভোডাফোনও জানায় যে রেজিস্টার্ড ইমেইল থেকে অনুরোধ আসায় তারা কর্পোরেট ওনড কর্পোরেট পেইড (COCP) কানেকশনের নিয়ম মেনেই ক্লোন সিম ইস্যু করে। তারা TRAI-এর কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করেনি বলেও দাবি করে।অভিযোগকারী পাল্টা অভিযোগ করে জানান, রোমিংয়ে থাকাকালীন বড় অঙ্কের লেনদেনের ক্ষেত্রে সেকেন্ডারি কন্ট্যাক্ট বা বাধ্যতামূলক অডিও-ভিডিও প্রসিডিউর অনুসরণ করা হয়নি। সাইবার ক্রাইম ব্রাঞ্চের তদন্তে উঠে আসে যে আহমেদাবাদে ভোডাফোন-আইডিয়ার সিম সোয়াপ সংক্রান্ত একটি বিশাল প্রতারণা চক্র কাজ করছে। জানা যায়, এই ধরনের কমপক্ষে ২০টি প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে, তবুও টেলিকম সংস্থাটির তরফে কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এই গুরুতর গাফিলতির কারণেই দুই সংস্থাকে মোটা অঙ্কের জরিমানা করা হয়েছে।






