রাজ্যের খবর

প্রথম বউয়ের এপিক কার্ড চুরি করে বাংলাদেশী মহিলাকে ‘স্ত্রী’র তকমা স্বামীর, চাঞ্চল্য হাঁসখালিতে

ঊষা দেবী আরও জানান, তার নামের ফর্ম এপিক নম্বর তার স্বামী অশোক দাস বাংলাদেশের মহিলার নামে ফিলাপ করেছে নিজের বউ হিসাবে ।

Truth Of Bengal: মাধব দেবনাথ, নদিয়া: নদিয়ার হাঁসখালীর গাজনা গ্রাম পঞ্চায়েতের শ্যামনগর মাঠপাড়া এলাকায় ঘটল চাঞ্চল্যকর ঘটনা। অভিযোগ, প্রথম স্ত্রী ঊষা রায়ের এপিক কার্ডের তথ্য চুরি করে তা ব্যবহার করে বাংলাদেশি এক মহিলাকে নিজের ‘স্ত্রী’ হিসেবে পরিচয় করালেন স্বামী অশোক রায়। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।গৃহবধূ ঊষা রায় জানান, তিনি জন্মসূত্রে ভারতীয় এবং বিবাহসূত্রে স্বামীর সঙ্গে শ্যামনগরে থাকতেন। অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই অশোক রায় নিয়মিত মারধর ও নির্যাতন করতেন তাঁকে। নির্যাতন বাড়তে থাকায় ছোট ছেলেকে নিয়ে তিনি কলকাতার সোনারপুরে গিয়ে পরিচারিকার কাজ শুরু করেন। বর্তমানে সেখানেই কাজ করে সংসার চালান তিনি।

ঊষা দেবীর দাবি, ২০০২ সালে তিনি শ্যামনগরে বসবাস করতেন এবং সে বছরের ভোটার তালিকায় তাঁর নামও রয়েছে। সম্প্রতি তিনি এসআইআর ফর্ম নিতে শ্যামনগরে আসেন। কিন্তু স্থানীয় ব্লক লেভেল অফিসার তাঁকে জানান, তাঁর স্বামী অশোক রায় আগেই তাঁর এসআইআর ফর্ম নিয়ে গিয়ে পূরণ করে জমা দিয়ে দিয়েছেন। এরপর স্বামীর কাছে ফর্ম চাইতে গেলে অশোক তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে বের করে দেন। ঊষা দেবী আরও জানান, তার নামের ফর্ম এপিক নম্বর তার স্বামী অশোক দাস বাংলাদেশের মহিলার নামে ফিলাপ করেছে নিজের বউ হিসাবে ।

তার স্বামী তার নিজের এপিক নম্বর চুরি করে বাংলাদেশের মহিলাকে এপিক নম্বর উপহার দিয়ে বউ বলে স্বীকৃতি দিয়েছে। অর্থাৎ তাঁর পরিচয় ব্যবহার করে একজন বাংলাদেশি নাগরিককে ভোটার বানানোর চেষ্টা হয়েছে, আর তাঁকে উল্টো বাংলাদেশি হিসাবে দেখানোর চেষ্টা চলছে বলে দাবি ঊষার।অভিযোগ জানাতে গিয়ে তিনি হাঁসখালি থানায়, রানাঘাট এসডিওর দফতরে লিখিত অভিযোগ করেন। কিন্তু হাঁসখালির বিডিও তাঁর অভিযোগ গ্রহণ করেননি বলেও দাবি করেছেন তিনি। এ ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন ঊষা রায়। তাঁর প্রশ্ন— আমি ভারতীয় নাগরিক হয়েও যদি নিজের এসআইআর ফর্ম না পাই, তবে কি এবার আমাকে বাংলাদেশেই যেতে হবে?এ বিষয়ে কৃষ্ণগঞ্জ ব্লক তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি শুভদীপ সরকার জানিয়েছেন, প্রশাসন যাতে দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ভোটারের নাম লিপিবদ্ধ করে এবং জালিয়াতির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়, সেই দাবি জানাবেন তাঁরা। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন। তবে এ ধরনের পরিচয়–জালিয়াতি ও বেআইনি নাগরিকত্ব প্রদানের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Related Articles