দেশ

বহু প্রতীক্ষিত ডিএ মামলার শুনানি শেষ সুপ্রিম কোর্টে, রায়দান কবে?

এই গুরুত্বপূর্ণ মামলাটি এদিন বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি পি কে মিশ্রর ডিভিশন বেঞ্চে ওঠে।

Truth Of Bengal: কেন্দ্রীয় হারে মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) দেওয়ার দাবিতে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীদের আবেদন সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্ট রায় স্থগিত রাখল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার এই মামলাটি শুনানির জন্য ওঠে বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি পি কে মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই মামলাকে ঘিরে রাজ্যের সরকারি কর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে চূড়ান্ত উত্তেজনা ও আশা।(DA)

[আরও পড়ুনঃ Ather Update: ভয়েস কমান্ডেই চলবে স্কুটার! ভারতীয়দের জন্য দুর্দান্ত ফিচার আনল এথার]

রাজ্য সরকারের পক্ষে বিশিষ্ট আইনজীবী কপিল সিবাল আদালতে সওয়াল করে জানান, ডিএ দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজ্যের নিজস্ব নীতি অনুসরণ করার অধিকার রয়েছে। তিনি বলেন, “রাজ্য তাদের মতো করে ডিএ দিতেই পারে। কেন্দ্র তার মতো করে দেবে। কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের উপর ডিএ সংক্রান্ত শর্ত আরোপ করতে পারে না।” সিবাল আরও বলেন, ডিএ নির্ধারণে কেবল আর্থিক সামর্থ্য নয়, জীবনযাত্রার খরচ (Cost of Living) ও ভৌগোলিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

অন্যদিকে, সরকারি কর্মীদের একটি সংগঠনের পক্ষে আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য পাল্টা সওয়ালে বলেন, “২০১০ সালের পর থেকে রাজ্য একাধিকবার তাদের অবস্থান বদলেছে। তারা কখনোই স্পষ্ট করেনি কোন নীতি অনুযায়ী ডিএ দেওয়া হচ্ছে।” পাশাপাশি, অন্য এক মামলাকারী সংগঠনের আইনজীবী করুণা নন্দী জানান, “আইনে স্পষ্ট বলা আছে ডিএ নিয়মিতভাবে দিতে হবে। রাজ্য সরকার এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।”(DA)

FB POST: https://www.facebook.com/truthofbengal

সুপ্রিম কোর্ট রায় সংরক্ষণ করার পরে, মামলাকারী সংগঠন কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ-এর সভাপতি শ্যামল মিত্র বলেন, “সরকার পক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তাঁদের বক্তব্য সম্পূর্ণভাবে আদালতের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। এখন পরবর্তীতে তাঁরা বলতে পারবেন না যে তাঁদের কথা শোনা হয়নি। আমরা কর্মীদের পক্ষে রায় আশা করছি।”(DA)

অন্যদিকে, ‘সরকারি কর্মচারি পরিষদ’-এর কার্যনির্বাহী সভাপতি সঞ্জীব পাল বলেন, “ডিএ-র দাবিতে আমরা বহুদিন ধরে লড়াই করছি। সেই লড়াই আজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আমরা আশাবাদী, সুপ্রিম কোর্ট আমাদের পক্ষেই রায় দেবে।”

উল্লেখযোগ্যভাবে, কেন্দ্রীয় হারে ডিএ না দেওয়ায় রাজ্যের একাংশ সরকারি কর্মী দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবাদ, আন্দোলন ও আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রথমে স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনাল (SAT) এবং পরে কলকাতা হাই কোর্ট তাঁদের পক্ষে রায় দেয়। তবে ২০২২ সালে হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ যে রায় দেয়, সেটিকে রাজ্য সরকার চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায়।

এখন সুপ্রিম কোর্টের রায় ঘোষণার অপেক্ষায় গোটা রাজ্য, বিশেষ করে লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী ও তাঁদের পরিবার। এই রায় একদিকে যেমন রাজ্যের আর্থিক নীতি ও স্বাধীনতা প্রশ্নে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে, তেমনই সরকারি কর্মীদের আর্থিক স্বস্তি ও ন্যায্য দাবির প্রাপ্তি নিয়েও ভবিষ্যতের পথ নির্ধারণ করবে।

Related Articles