বিনোদন

“ধর্মের কল বাতাসে নড়ে! টলিউডকে কলুষিত করেছিল ২ বিশ্বাস ব্রাদার্স”, স্বরূপের গ্রেফতারিতে বিস্ফোরক রুদ্রনীল

স্বরূপ বিশ্বাসের এই চরম পরিণতির পর নিজের ক্ষোভ ও যন্ত্রণার কথা উগরে দিয়ে এক বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন তিনি

Truth of Bengal: মেসিকাণ্ডে নাম জড়ানো ও পুলিশি তলব এড়াতে রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ‘অসুস্থ’ হয়ে পড়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই টলিউড স্টুডিও পাড়ায় ঘটল আরও এক মহাবিস্ফোরণ। এবার তোলাবাজি থেকে শুরু করে শ্লীলতাহানির মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগে পুলিশি গ্রপ্তারির মুখে পড়লেন অরূপ বিশ্বাসের ভাই তথা টলিপাড়ার ‘দণ্ডমুণ্ডের কর্তা’ স্বরূপ বিশ্বাস। দীর্ঘদিন ধরে স্টুডিও পাড়ার অন্দরে কান পাতলেই যাঁর ‘অঙ্গুলিহেলনে’ ফেডারেশন এবং গোটা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি চলার গুঞ্জন শোনা যেত, সেই স্বরূপ বিশ্বাস গ্রেপ্তার হতেই এবার মারাত্মক সব অভিযোগ উগরে দিয়ে মুখ খুললেন বিজেপি নেতা তথা অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ। দীর্ঘদিন ধরে বিরোধী রাজনীতি করার কারণে টলিউডে কাজ না পাওয়া এবং একাধিক প্রজেক্ট হাতছাড়া হওয়া নিয়ে বারেবারে সরব হয়েছেন রুদ্রনীল। স্বরূপ বিশ্বাসের এই চরম পরিণতির পর নিজের ক্ষোভ ও যন্ত্রণার কথা উগরে দিয়ে এক বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন তিনি।

স্বরূপ বিশ্বাস গ্রেপ্তার হতেই রুদ্রনীল ঘোষের সাফ প্রতিক্রিয়া, “যা হয়, ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। দীর্ঘ বেশ কয়েক বছর ধরে যেভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশীর্বাদে ও নির্দেশে এই দুই ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’—অরূপ বিশ্বাস এবং স্বরূপ বিশ্বাস টলিউডকে সম্পূর্ণ কলুষিত করেছিল, তা আজ প্রমাণিত। ফেডারেশনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার চেয়ারে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে বসে স্বরূপ বিশ্বাস যেভাবে প্রযোজক, পরিচালক, টেকনিশিয়ান্স, আর্টিস্ট সবার মধ্যেকার সুস্থ সম্পর্ককে বিষিয়ে দিয়েছিল, তা সবার জানা।” তিনি আরও দাবি করেন, “সারা ভারতবর্ষের কোনও ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে যে ধরণের নিয়ম নেই, নিজেদের পকেট ভরাতে এখানে সেই সব মনগড়া নিয়ম তৈরি করা হয়েছিল। যার জেরে বহু প্রযোজক এই ইন্ডাস্ট্রি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। বাইরে থেকে অন্য ভাষার প্রযোজকেরা এখন আর বাংলায় শ্যুটিং করতে আসতে চান না। এদের তৈরি করা সেই অলিখিত নিয়ম যদি কোনও টেকনিশিয়ান্স, কোনও প্রযোজক বা কোনও শিল্পী না মানতেন, তবে তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে একঘরে করে দেওয়া হতো, তাঁর কাজ কেড়ে নেওয়া হতো। এটাই ছিল তাঁদের মূল নিয়ম-নীতি।”

বিগত ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময়কার একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনার স্মৃতিচারণ করে রুদ্রনীল বলেন, “আপনারা জানেন, নিশ্চয়ই মনে আছে, ২০২১ সালে এটা নিয়ে আমি যখন প্রথম বড় করে সরব হয়েছিলাম এবং বলেছিলাম যে টলিউডে ‘মাফিয়ারাজ’ চলছে যা ইন্ডাস্ট্রির সর্বনাশ করে দিচ্ছে—সেই কথা জানার পরেই স্বরূপ বিশ্বাস আমার টেকনিশিয়ান ভাইদের জোর করেছিলেন। তাঁদের বাধ্য করা হয়েছিল বুকে কালো ব্যাজ পরে টেকনিশিয়ান্স স্টুডিও থেকে উত্তমকুমারের মূর্তি অবধি টলিগঞ্জে আমার বিরুদ্ধে মিছিল করতে।” অভিনেতা আরও যোগ করেন, “সেই মিছিলে হাঁটার মাঝেই একজন টেকনিশিয়ান ভাই আমায় লুকিয়ে ফোন করেছিলেন। ক্রন্দনাতুর গলায় তিনি আমায় বলেছিলেন, ‘ভাই, তুই সত্যি কথা বলেছিস বলে আজ তোর বিরুদ্ধে আমাদের রাস্তায় হাঁটতে হচ্ছে। কারণ আমরা যদি এই মিছিলে না হাঁটি, তবে কাল থেকে আমাদের পেটের ভাত কেড়ে নেওয়া হবে, কাজ দেওয়া হবে না।’ শুধুমাত্র টেকনিশিয়ান্সদের ওপর অত্যাচার নয়, বন্ধুবান্ধবদের মধ্যে সম্পর্ক খারাপ করা, সহকর্মীদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করা এবং ফেডারেশনকে ব্যবহার করে কীভাবে স্বরূপ বিশ্বাস টাকা তোলার জন্য চাপ দিতেন, তার সমস্ত খবর টলিউডের অলিন্দে কান পাতলেই শোনা যায়।”

Related Articles