সম্প্রীতির সুরে বাঁধা পুজো, ৫০০ বছরের রীতি মেনে আরাধনা, ‘ভোগ রান্না করেন’ মৃন্ময়ী মা!
Mahamaya has been worshiped in the traditional way for more than 500 years

Truth of Bangla: চিরাচরিত রীতি মেনে রানাঘাটের ঘোষ বাড়িতে এখনও পুজোপাঠ হয় মা দুর্গার। ৫০০ বছরের বেশি সময় ধরে সনাতনী প্রথায় মহামায়ার আরাধনা করা হয়। এই বনেদি বাড়িতে পঞ্চমীর দিন বোধন হয়। বিশ্বাস করা হয়,নিজের ভোগ নিজেই রান্না করে নেবেন মা। সেইজন্য দেবীর সামনে দেওয়া হয়,ঘি মাখানো আতপ চাল ,সব্জি। সম্প্রীতির এই পুজোয় হিন্দুদের মতোই অংশ নেন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষও।
৫০০বছর বেশি সময়ের পরম্পরা মেনে এখনও পুজোপাঠ করা হয় মা দুর্গার। চিরাচরিত রীতি মেনেই রানাঘাটের ঘোষ বাড়ির পুজো করা হয়। চৈতন্য চরণ ঘোষ ওপার বাংলার রীতি মেনে এপার বাংলায় পুজোয় আয়োজন করেন। তারপর তাঁর ছোটভাই মকারন্ধ ঘোষ পুজো করেন। এখনও পরিবারের সদস্যরা নিষ্ঠাভরে দশভূজার আরাধনা করেন। এই বনেদি বাড়িতে ঠাকুর তৈরিরও আলাদা নিয়ম রয়েছে।
আগে একটি পাটাতে মাটি তুলে রাখা হত, তারপর সেই মাটি দিয়েই পরবর্তী বছরে ঠাকুর তৈরি করা হত।সেই রীতি এখনও মেনে চলা হয়। বছরের পর বছর ধরে এভাবেই উমা বন্দনার চল রয়েছে এই ঘোষ বাড়িতে । আর উদারতার উঠোনে পুজোর আনন্দ ভাগ করে নিতে হিন্দুদের মতোই আসেন মুসলীম সম্প্রদায়ের মানুষেরাও।সবার আনন্দের ধ্বনিতে মুখরিত হয় পুজো প্রাঙ্গন।সমাজের সাম্যের বাণী যেন আরও একবার ছড়িয়ে যায়।
৫০৪ বছর ধরে হয়ে আসছে এই পূজো। একটা সময় ৫১টি পাঠা ও মোষ বলি হতো ১৯৩৪সালে পাঠা বলি বন্ধ হয়ে যায় স্বপ্নাদেশে। এবং ঘোষ বংশের রামগোপাল ঘোষ মারা যান। ক্ষয় ক্ষতি হয় তার পর থেকে আর বলি হয়নি বন্ধ হয়ে যায়। ষষ্ঠী তে নয়, পঞ্চমীতে বোধন শুরু হয়। তারপর অধিবাসের সময় রক্ষা প্রদীপ জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।
পরিবারের বিশ্বাস দুর্গার কাছে যে প্রদীপ জ্বালানো হয় তাতে কোনওদিন এই বংশের প্রদীপ নিভবে না। বিসর্জন হয়ে গেলে পাঠ ভেঙে সেইরক্ষা প্রদীপের থেকে প্রদীপ জ্বালিয়ে বাড়ির বিভিন্ন ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই প্রদীপের আলোতে ১০৮বার দুর্গা নাম লেখা হয়। কলাপাতার ওপর তা লেখা হয়, তারপর চূর্ণী নদীতে বিসর্জন দেওয়া হয়, নাহলে তুলসী তলায় দেওয়া হয়।
বিশ্বাস করা হয়,নিজের ভোগ নিজেই রান্না করে নেবেন মা।সেইজন্য দেবীর সামনে দেওয়া হয়,ঘি মাখানো আতপ চাল ,সব্জি। নবমীর দিন থোর ও মোচার ভোগ দেওয়া হয়। পাশাপাশি কাদা খেলা হয়। পরিবারের গন্ডি পেরিয়ে সমাজের সব মানুষের কাছে এই মহাপুজো সম্প্রীতির বাঁধনকে শক্তিশালী করে।






