অবশেষে থানায় হাজিরা দিলেন অভিষেক, চতুর্থীর সকালে পুলিশের দুয়ারে তৃণমূল সাংসদ
৪৮ ঘণ্টার সময় চেয়েও শেষ রক্ষা হল না! পুলিশি সমন মেনে তদন্তকারীদের মুখোমুখি ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ!
Truth of Bengal: অবশেষে থানায় হাজিরা দিলেন ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্যামাক স্ট্রিটের বিতর্কিত বিলবোর্ড খোলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের কাজে বাধা ও হেনস্তার অভিযোগে গত সোমবারই তাঁকে তলব করেছিল শেক্সপিয়র সরণি থানার পুলিশ। তবে সেদিন কম সময়ের নোটিসের অজুহাত দেখিয়ে হাজিরা এড়িয়ে যান সাংসদ এবং ইমেল মারফত অন্তত ৪৮ ঘণ্টা সময় চেয়ে নেন। সেই মেলের উত্তর হিসেবে পুলিশ আধিকারিকরা তৎক্ষণাৎ সোমবার রাতেই অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে গিয়ে বুধবার অর্থাৎ আজ চতুর্থীর সকালে হাজির হওয়ার নতুন নোটিস ধরিয়ে এসেছিলেন। সেই নির্দেশিকা মেনেই আজ নির্দিষ্ট সময়ে এক আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে সশরীরে শেক্সপিয়র সরণি থানায় এসে হাজির হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
গত ২৭ আগস্ট ক্যামাক স্ট্রিটে অবস্থিত অভিষেকের দলীয় দফতরের ছাদ থেকে একটি বেআইনি বিলবোর্ড অপসারণ করতে গিয়ে নজিরবিহীন ধুন্ধুমার কাণ্ড বেধেছিল। অভিযোগ ওঠে, পুরকর্মী ও পুলিশ যখন ওই বিলবোর্ড খুলতে যান, তখন সাংসদের দপ্তরের নিরাপত্তারক্ষী ও অনুগামীরা তাঁদের ওপর চড়াও হন। পুলিশকর্মীদের কলার ধরে মারধর করা হয়, সিঁড়িতে ফেলে হেনস্তা করা হয় এবং পুরকর্মীদের কাজে লাগাতার বাধা দেওয়া হয়। এই ঘটনায় কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে মোট তিনটি আলাদা এফআইআর বা মামলা রুজু করা হয়। এর আগেও একটি পৃথক মামলায় অভিষেককে দীর্ঘ ৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল পুলিশ। পরবর্তীতে বাকি মামলাগুলির ভিত্তিতে তাঁকে ফের তলব করা হলে তিনি শুরুতে সময় চান। অবশেষে নির্ধারিত বুধবারে তিনি থানায় এলেন।
আজ সকাল ১১টা নাগাদ শেক্সপিয়র সরণি থানার সামনে যখন অভিষেকের কনভয় এসে থামে, তখন চত্বরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। গাড়ি থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে উপচে পড়া সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের ক্যামেরা তাঁর দিকে তেড়ে যায়। বিলবোর্ড কাণ্ড ও মামলার গতিপ্রকৃতি নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন ছুঁড়ে দেওয়া হলেও অভিষেক একটি মুখের কথাও খরচ করেননি। সাংবাদিকদের সমস্ত প্রশ্ন সম্পূর্ণ এড়িয়ে তিনি গম্ভীর মুখে সোজা থানার অন্দরে প্রবেশ করেন। আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে তদন্তকারী আধিকারিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই সংঘর্ষের ঘটনায় কী সাফাই দেন এবং পুলিশ এই তদন্তে আর কী পদক্ষেপ করে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজনৈতিক মহল।





