দেশ

এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে অপহরণের আতঙ্ক, জরুরি অবতরণ জয়পুরে! মাঝআকাশে কী ঘটেছিল?

ঠিক কী ঘটেছিল, তা জানতে তদন্ত চলছে

Truth of Bengal: মাঝ আকাশে বিমান ছিনতাইয়ের আশঙ্কা ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য। জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমানকে বুধবার সকালে জরুরি ভিত্তিতে রাজস্থানের জয়পুরে অবতরণ করানো হল। বিমানে বোমা রাখা রয়েছে এবং সেটি ছিনতাই হতে পারে, এমন খবর ছড়িয়ে পড়তেই তৎপর হয়ে ওঠেন নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আধিকারিকরা। যদিও প্রাথমিকভাবে জয়পুর বিমানবন্দর সূত্রে দাবি করা হয়েছে, ঘটনাটি বোমাতঙ্ক নয়, বরং বিমান ছিনতাইয়ের গুজবকে কেন্দ্র করে। ঠিক কী ঘটেছিল, তা জানতে তদন্ত চলছে। সূত্রের খবর, এয়ার ইন্ডিয়ার AI 2030 বিমানটি ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। মাঝ আকাশে ছিনতাইয়ের আশঙ্কার খবর সামনে আসতেই বিমানটিকে জরুরি বার্তা পাঠানো হয়। এরপরই সেটির গতিপথ পরিবর্তন করে জয়পুরের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। ভারতের আকাশসীমায় প্রবেশের পর এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলিকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল বলে খবর।

‘হিন্দুস্তান টাইমস’-কে জয়পুর বিমানবন্দরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বিমান ছিনতাইয়ের গুজব ছড়িয়েছিল। তবে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি তিনি। তদন্ত শেষ হলেই প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে বলে জানা গিয়েছে।
বিমানটিকে নিরাপদে জয়পুর বিমানবন্দরে অবতরণ করানো হয়। এরপর যাত্রীদের নামিয়ে তল্লাশি চালানো হয় বলে সূত্রের খবর। বিমানটিকে অন্য জায়গায় সরিয়ে রেখে পরীক্ষা করার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। তবে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত এয়ার ইন্ডিয়া বা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি ১৩ অক্টোবর স্থানীয় সময় রাত পৌনে ১০টা নাগাদ ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে উড়েছিল। ১৪ অক্টোবর সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে দিল্লিতে পৌঁছনোর কথা ছিল তার। কিন্তু মাঝপথে জরুরি পরিস্থিতির খবর সামনে আসায় নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছনোর আগেই গতিপথ বদল করতে হয়।

সূত্রের দাবি, বুধবার সকাল ৯টা নাগাদ আহমেদাবাদ এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল বিমানের কাছ থেকে একটি জরুরি সংকেত পায়। সংকেতটি প্রায় ৯ সেকেন্ড স্থায়ী হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। এরপর সকাল ৯টা ১০ মিনিট নাগাদ বিমানটিকে জয়পুরের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। সকাল পৌনে ১০টা নাগাদ সেটি জয়পুর বিমানবন্দরে অবতরণ করে। উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বরেও দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানকে ঘিরে ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনায় সহ-পাইলট হাম্মাম আল-হামামের বিরুদ্ধে ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরের উপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো এবং বিমানটির নিয়ন্ত্রণ বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। শেষ পর্যন্ত ক্যাপ্টেন স্মিতের প্রতিরোধ এবং যাত্রীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হয়েছিল বলে জানা যায়। ওই বিমানে ১৮৪ জন যাত্রী ছিলেন।

Related Articles