রাজ্যে উঠে যাচ্ছে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন! এসএসসির অধীনেই এবার মাদ্রাসা শিক্ষক নিয়োগ
সংখ্যালঘু পড়ুয়ারা কেন বিজ্ঞান-অঙ্ক শিখবে না?", মাদ্রাসা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের সমর্থনে শমীক!
Truth of Bengal: রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তন ও বৈপ্লবিক সংস্কারের পথে হাঁটতে চলেছে নয়া রাজ্য সরকার। রাজ্যে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে পৃথক ‘মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন’ (Madrasah Service Commission)। এটিকে সরাসরি যুক্ত বা মার্জ করা হচ্ছে ‘স্কুল সার্ভিস কমিশন’ (SSC)-এর সঙ্গে। অর্থাৎ, এখন থেকে রাজ্যে সাধারণ বিদ্যালয়গুলির মতোই মাদ্রাসাগুলিতেও এসএসসির মাধ্যমেই শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন করা হবে। শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও সমতা বজায় রাখতেই এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, “আলাদা করে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন রাখার কোনও যুক্তি নেই। ওটা তুলে দিয়ে আমরা স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মার্জ করে দিয়েছি।”
উল্লেখ্য, এতদিন পর্যন্ত মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগের জন্য আলাদা পরীক্ষা গ্রহণ ও দীর্ঘমেয়াদী আলাদা নিয়োগ পদ্ধতি চালু ছিল, যার ফলে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে চরম বিভ্রান্তি তৈরি হত। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে চাকরিপ্রার্থীরা একটি একক প্ল্যাটফর্মেই আবেদনের সুযোগ পাবেন। এর ফলে প্রশাসনিক স্তরে সরকারি কোষাগারের অপচয় যেমন কমবে, তেমনই রাজ্য শিক্ষাব্যবস্থার আমূল উন্নতি ঘটবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। তবে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে বিধানসভায় নতুন বিল এনে পুরনো আইন বাতিল এবং এসএসসি আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে হবে রাজ্য সরকারকে।
এই সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে সরব হয়েছেন বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল। তিনি জানান, “সরকার দাবি করছে এতে মাদ্রাসা শিক্ষার সার্বিক অগ্রগতি হবে এবং পড়ুয়ারা সমাজের মূল স্রোতে আসবে। আমরা চাই ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হোক। কিন্তু সরকার যদি কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা খারাপ চিন্তাভাবনা থেকে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে, তবে আমরা রাজপথে নেমে প্রতিবাদ জানাব।”
অন্য দিকে, সরকারের এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপে সমর্থন জানিয়ে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “কেন সংখ্যালঘু পড়ুয়ারা আধুনিক বিজ্ঞান বা গণিত পড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকবে? কেন তারা জাতীয় জনজীবনের মূল স্রোতে যোগ দিতে পারবে না? শিক্ষাকে সবার জন্য সমান ও সর্বব্যাপী করে তুলতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।”






