মহিলা সাংসদদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ, কল্যাণকে বহিষ্কারের দাবি কাকলির
সংসদের অন্য মহিলা সাংসদদের বিরুদ্ধেও আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে বলে দাবি তাঁর
Truth of Bengal: মহিলা সাংসদদের উদ্দেশে ‘আপত্তিকর’ ও ‘অসম্মানজনক’ মন্তব্য করার অভিযোগে ফের বিতর্কের কেন্দ্রে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। শ্রীরামপুরের সাংসদের বিরুদ্ধে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি লিখে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানালেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। প্রয়োজনে কল্যাণকে বহিষ্কারের আর্জিও জানিয়েছেন তিনি। চিঠিতে কাকলির অভিযোগ, একাধিকবার তাঁকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, সংসদের অন্য মহিলা সাংসদদের বিরুদ্ধেও আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে বলে দাবি তাঁর। কাকলির বক্তব্য, এই ধরনের আচরণ নারীবিদ্বেষী, অসম্মানজনক এবং সংসদীয় শালীনতার পরিপন্থী।
বারাসতের সাংসদের অভিযোগ, সংসদের ভিতরে এমন কিছু মন্তব্য করা হয়, যার ফলে মহিলা সাংসদরা অস্বস্তিবোধ করেন। তিনি দাবি করেছেন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আচরণ লোকসভার ৩৪৯ ধারার পরিপন্থী। তাঁর কথায়, “একাধিক সময় ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হয়েছে। হেনস্তা করা হয়েছে।” এই ঘটনার প্রেক্ষিতে স্পিকার যাতে অবিলম্বে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেন, সেই আবেদনই জানিয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তবে এই অভিযোগ নতুন নয়। এর আগেও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ তুলে লোকসভার স্পিকারকে চিঠি দিয়েছিলেন কাকলি। তখনও তিনি নারীবিদ্বেষী মন্তব্য ও ব্যক্তিগত আক্রমণের অভিযোগ করেছিলেন। এবার ফের নতুন করে অভিযোগ জানানোয় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, কাকলির অভিযোগের পালটা জবাব দিয়েছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, ২০১১ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় তিনি সংসদীয় দলের মুখ্যসচেতক ছিলেন। মাঝে কয়েক মাস সেই পদে না থাকলেও তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার জায়গা নেই বলেই ইঙ্গিত দেন তিনি। একইসঙ্গে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে লক্ষ্য করে নারদ ও সিন্ডিকেট প্রসঙ্গও টেনে পালটা খোঁচা দেন কল্যাণ। তৃণমূলের অন্দরে যখন বিদ্রোহী সুর ক্রমশ প্রকট হচ্ছে, ঠিক সেই সময় দলেরই দুই সাংসদের এই প্রকাশ্য সংঘাত নতুন করে অস্বস্তি বাড়াল। এখন স্পিকার ওম বিড়লা এই অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও পদক্ষেপ করেন কি না, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।






