এনসিপিআই না এবার সরাসরি বিজেপিতে? মঙ্গলে শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠকের পরই সুদীপ-কাকলিদের ভবিষ্যৎ চূড়ান্ত!
দিল্লির বঙ্গভবনে মেগা বৈঠক! মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মুখোমুখি ২০ এনসিপিআই সাংসদ
Truth of Bengal: রাজ্য রাজনীতির জল কোন দিকে গড়াবে, তা নিয়ে নতুন করে চর্চা তুঙ্গে উঠে এসেছে। দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন এনসিপিআই-এর সাংসদরা। আগামী মঙ্গলবার দিল্লির বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের দিকেই এখন চোখ রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। দলত্যাগীদের এই বৈঠকে যোগদানের খবর আসতেই জল্পনা ডালপালা মেলতে শুরু করেছে। এই হাইপ্রোফাইল বৈঠকের পরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যেরও একান্তে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়ে আসা সাংসদদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী হবে এবং তাঁরা এনসিপিআইতেই থাকবেন নাকি সরাসরি বিজেপিতে আত্মপ্রকাশ করবেন, সেই বিষয় নিয়ে চরম কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
এর আগে সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর দিকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দিল্লিতে এনসিপিআই সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও শতাব্দী রায়দের একটি বৈঠক নির্ধারিত ছিল। তবে ব্যস্ততার কারণে মুখ্যমন্ত্রী সেবার দিল্লি যেতে পারেননি। পরবর্তীতে কলকাতায় ফিরে নবান্নে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর একপ্রস্থ কথা হলেও সেই আলোচনার খবর গোপনই ছিল। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, আগের সেই মুলতবি হওয়া বৈঠকটিই এবার বঙ্গভবনে পূর্ণাঙ্গ রূপ পেতে চলেছে।
দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দে গুঞ্জন, এবার বৈঠকে কি কেবল ২০ জন এনসিপিআই সাংসদ উপস্থিত থাকবেন, নাকি সাংসদদের এই উপস্থিতি আরও বাড়বে? তা নিয়েও আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে সরাসরি কোনও কথা না বললেও সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার মুচকি হেসে বিষয়টিকে কিছুটা আড়ালেই রেখেছেন। পাশাপাশি তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হওয়া থেকে শুরু করে একাধিক দুর্নীতি প্রসঙ্গ তুলে মমতা শিবিরকে তীব্র কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তিনি। জানা যাচ্ছে, এই বৈঠকে সুখেন্দুশেখর রায়, প্রকাশ চিক বরাইক ও সুস্মিতা দেবের মতো হেভিওয়েটদের উপস্থিত থাকার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমানে এনসিপিআই সাংসদদের একটি বড় অংশ নিজেদের লোকসভা বা রাজ্যসভা এলাকায় সাধারণ রাজনৈতিক কাজে বা সফর করতে গিয়ে বাধা পাচ্ছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এমনকি স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের তরফে কোনও সহযোগিতা মিলছে না বলেও অভিযোগ উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রীর সামনে সাংসদরা এই সমস্ত অভাব-অভিযোগ ও আইনি বিষয় তুলে ধরতে পারেন। অন্যদিকে, এই বৈঠকের পরপরই শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর আলোচনা রাজনৈতিক দিক থেকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে। তৃণমূল থেকে বেরিয়ে আসা এই দলত্যাগী বিধায়ক ও সাংসদরা এনসিপিআইয়ের ব্যানারে থাকবেন নাকি শেষ পর্যন্ত বিজেপির পতাকা হাতে নেবেন, তা হয়তো এই জোড়া বৈঠকের পরই পরিষ্কার হয়ে যাবে।






