সুপ্রিম কোর্টেও স্বস্তি পেল না কালীঘাট তৃণমূল, ইডির কাছে জবাব তলব
সোমবার সুপ্রিম কোর্টে তৃণমূলের হয়ে সওয়াল করেন বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল সিব্বল
Truth of Bengal: দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টেও এখনই স্বস্তি পেল না কালীঘাট তৃণমূল। কলকাতা হাই কোর্টের নিযুক্ত প্রশাসকের নিয়ন্ত্রণে থাকা অ্যাকাউন্টগুলি থেকে দৈনন্দিন খরচ চালানোর জন্য তৃণমূলকে টাকা তোলার অনুমতি দেওয়া যায় কি না, সেই বিষয়ে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের বক্তব্য জানতে চেয়েছে শীর্ষ আদালত। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১১ আগস্ট। সোমবার সুপ্রিম কোর্টে তৃণমূলের হয়ে সওয়াল করেন বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল সিব্বল। তাঁর বক্তব্য, দলের অ্যাকাউন্টগুলি থেকে টাকা তোলার সুযোগ না থাকায় কর্মীদের বেতন-সহ নিয়মিত প্রশাসনিক খরচ মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। সেই কারণে অন্তর্বর্তীকালীন ভাবে কিছু টাকা ব্যবহারের অনুমতি চাওয়া হয়।
ইডির হয়ে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু পাল্টা দাবি করেন, তৃণমূলের সব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়নি। কিছু অ্যাকাউন্টে এখনও নিয়মিত আর্থিক লেনদেন চলছে বলেও আদালতে জানান তিনি। এই বক্তব্যকে চ্যালেঞ্জ করে কপিল সিব্বল বলেন, কোনও একটি অ্যাকাউন্টে লেনদেন হওয়ার প্রমাণ আদালতে পেশ করা হোক। দু’পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর তৃণমূলের অন্তর্বর্তীকালীন আবেদনের বিষয়ে ইডির লিখিত অবস্থান জানতে চায় সুপ্রিম কোর্ট। আদালত জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট সমস্ত পক্ষের বক্তব্য শোনার পরেই অ্যাকাউন্ট থেকে দৈনন্দিন খরচের টাকা তোলার অনুমতি দেওয়া হবে কি না, তা বিবেচনা করা হবে। ফলে আপাতত ফ্রিজ হওয়া অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ ব্যবহারের অনুমতি পায়নি তৃণমূল।
এর আগে একই বিষয় নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূল নেতা দোলা সেন এবং ডেরেক ও’ব্রায়েন। তবে মামলাটি দায়ের করার ক্ষেত্রে তাঁদের বৈধ আইনি অধিকার বা অনুমোদন রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল ইডি। হাই কোর্টে ইডির আইনজীবীর বক্তব্য ছিল, তৃণমূলের জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটি ওই মামলা দায়েরের অনুমোদন দিয়েছে—এমন কোনও নথি আদালতে পেশ করা হয়নি। ডেরেক ও’ব্রায়েন কমিটির সদস্য হলেও তাঁকে মামলা করার আনুষ্ঠানিক অনুমতি দেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও আবেদনে স্পষ্ট করা হয়নি বলে দাবি করা হয়। বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চ সেই পর্যায়ে মামলায় হস্তক্ষেপ করেনি। এরপরই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় তৃণমূল। আগামী ১১ আগস্টের শুনানিতে ইডির বক্তব্য এবং অন্যান্য পক্ষের মতামত বিবেচনা করে শীর্ষ আদালত পরবর্তী নির্দেশ দিতে পারে।





