কলকাতা

১৯ বছর পর কলকাতায় তসলিমা নাসরিন! ‘কফি হাউস’-এ বসে আবার জমে উঠল পুরোনো আড্ডা

উনিশ বছর পর আবার কফি হাউসের পরিচিত আড্ডায় বসে নস্ট্যালজিক হয়ে পড়েন তসলিমা

Truth of Bengal: ২০০৭ সালে বই বিতর্কের জেরে কলকাতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। দীর্ঘ উনিশ বছর পর ফের সেই প্রিয় শহরে ফিরে আবেগাপ্লুত তিনি। কলকাতায় পা রাখার পর থেকেই পুরনো স্মৃতি যেন বারবার ফিরে আসছে তাঁর কাছে। সোমবার শহরের ব্যস্ততার মধ্যেই পৌঁছে গেলেন ঐতিহ্যবাহী কলেজ স্ট্রিট কফি হাউসে। উনিশ বছর পর আবার কফি হাউসের পরিচিত আড্ডায় বসে নস্ট্যালজিক হয়ে পড়েন তসলিমা। বাঙালির সাহিত্য, গান, রাজনীতি ও সংস্কৃতির অসংখ্য স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে এই কফি হাউসের সঙ্গে। এদিন জনপ্রিয় লেখিকাকে সামনে পেয়ে মুহূর্তেই বদলে যায় সেখানকার পরিবেশ। তাঁকে ঘিরে ভিড় করেন অনুরাগী, পাঠক ও উপস্থিত অতিথিরা। ক্যামেরার ঝলকানিতে যেন প্রাণ ফিরে পায় ঐতিহ্যবাহী কফি হাউসের চার দেওয়াল।

কফি হাউস থেকে বেরিয়ে নিজের উচ্ছ্বাস গোপন করেননি তসলিমা। তিনি বলেন, “এতদিন পর কফি হাউসে এলাম, দারুণ লাগল। খুব সুন্দর সময় কাটালাম। আমি আবার আসব। ব্ল্যাক কফি, পকোড়া আর ফিশ ফিঙ্গার খেলাম। কফি হাউসে যখন এসেছি, তখন কফি তো খাবই।” বিদায়ের আগে নিজের হাতে কফি হাউসের দেওয়ালে স্মৃতির বার্তাও লিখে যান তিনি—“কফি হাউসের আড্ডাটা আজ আবার হল উনিশ বছর পর। আরও আড্ডা হবে।” জীবনানন্দ দাশের কবিতার ভাষা ধার করলে, কলকাতার মাটিতে দাঁড়িয়ে তসলিমার বার্তাও যেন—‘আবার আসিব ফিরে’। শুধু কফি হাউস নয়, আগামী বছরের কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলাতেও উপস্থিত থাকার কথা জানিয়েছেন তসলিমা নাসরিন। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “আমি আগামী বছর বইমেলায় থাকছি। যে বইয়ের জন্য কলকাতা ছাড়তে হয়েছিল, সেই কলকাতাতেই আমার বই প্রকাশিত হবে। ‘আত্মজীবনী সমগ্র ১’ প্রকাশিত হয়েছে। এরপর আরও অনেক খণ্ড বের হবে।”

কলকাতায় ফিরে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি নিজের গভীর টানের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তসলিমা বলেন, “বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি আর নারীর প্রতি টান আজও আমার হৃদয়ে অমলিন। মনে হচ্ছে, আমি যেন জীবন ফিরে পেলাম। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়েই বাঁচতে চাই। এখানে এসে মনে হচ্ছে, নিজের দেশেই রয়েছি।” আগামী দিনে তাঁর আরও কবিতা, গল্প এবং আত্মজীবনীমূলক বই প্রকাশিত হবে বলেও জানিয়েছেন লেখিকা। তাঁর কথায়, “আবার আগের মতো বইমেলার স্টলে বসব। পাঠকদের সঙ্গে কথা বলব। আরও অনেক বই প্রকাশিত হবে।” উনিশ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার পর কলকাতায় ফিরে তসলিমার এই আবেগঘন উপস্থিতি যেন শুধুই একজন লেখিকার প্রত্যাবর্তন নয়—এ যেন তাঁর প্রিয় ভাষা, সংস্কৃতি এবং পাঠকদের কাছে নতুন করে ফিরে আসা।

Related Articles