রাজ্যের খবর

“১৪ তলা থেকে হীরকরানিকে নামাতে পেরেছি!”, সুবিচারের আশায় প্রত্যয়ী ‘অভয়ার মা’ রত্না

কল্যাণী মেডিক্যালের মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিস্ফোরক ও আবেগঘন অভয়ার মা রত্না দেবনাথ

Truth of Bengal: আরজি করের সেই নৃশংস ঘটনার পর কেটে গিয়েছে দীর্ঘ দুটি বছর। কিন্তু একমাত্র মেয়ের মৃত্যুর সুবিচার পাওয়ার লড়াই এবং কোল খালি হওয়া মায়ের বুকের আগুন যে বিন্দুমাত্র নেভেনি, তা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল। শনিবার কল্যাণী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ফের একবার রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলে দিলেন পানিহাটির নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক তথা ‘অভয়া’র মা রত্না দেবনাথ (Ratna Debnath)। ছাব্বিশের মে মাসে বাংলায় ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পর নবান্নের মসনদ থেকে তৃণমূলের বিদায়কে ইঙ্গিত করে এদিন মঞ্চ থেকে অত্যন্ত চড়া সুরে তিনি বলেন, “অবশেষে ১৪ তলা থেকে হীরকরানিকে আমরা নামাতে পেরেছি।” একইসঙ্গে মেয়ের স্মৃতি চারণা করতে গিয়ে বিচার পাওয়ার প্রশ্নে বর্তমান সরকারের ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেন তিনি।

“মেডিকেল কলেজগুলিকেই বাড়ি থেকে সরঞ্জাম নিয়ে যেতে হত!”

এদিন কল্যাণী মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষক ও চিকিৎসকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবী। মেয়ের ডাক্তারি পড়ার দিনগুলোর কথা মনে করে আবেগঘন গলায় তিনি বলেন, “এখানকার শিক্ষকরা আমাকে কথা দিয়েছিলেন, আপনার মেয়েকে এমন একজন ডাক্তার তৈরি করব, যে রোগীর পাশে বসে কাঁদতে পারবে। আমার মেয়ের মধ্যে সেই শিক্ষা আর মানবিকতা দুটোই ছিল।”

ratna debnath
চিত্র- সংগৃহীত

মেয়ের অসামান্য কর্মনিষ্ঠার কথা বলতে গিয়ে চিকিৎসা ব্যবস্থার কঙ্কালসার রূপটিকেও কাঠগড়ায় তোলেন তিনি। রত্না দেবনাথের বিস্ফোরক দাবি, “হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম না থাকায়, আমার মেয়ে বাড়ি থেকেই অনেক জিনিসপত্র নিয়ে যেত রোগীদের চিকিৎসা করার জন্য। তাই শুধু ডাক্তারদের দোষ দিলে হবে না, হাসপাতালগুলিতে পর্যাপ্ত সরঞ্জাম ও উপযুক্ত পরিকাঠামো দিতে হবে সরকারকে।”

খুনের কারণ জানতে আজও চাতকের মতো অপেক্ষা

মেয়ের মৃত্যুর ন্যায়বিচার পাওয়াই যে তাঁর জীবনের একমাত্র মূল লক্ষ্য, তা মনে করিয়ে দিয়ে অভয়ার মা বলেন, “দুই বছর হয়ে গেল মেয়েকে হারিয়েছি। কিন্তু বিচার পাওয়ার লড়াই আমি শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত চালিয়ে যাব। আমি বিশ্বাস করি এবার আমি প্রকৃত বিচার পাব, কারণ বর্তমান সরকারের ওপর আমার সেই ভরসা রয়েছে।”

বুকের ভেতর চেপে রাখা অন্তহীন যন্ত্রণা উগরে দিয়ে তিনি আরও বলেন, “আমার মেয়ের মতো আর কোনও মায়ের কোল যেন এই বাংলায় খালি না হয়। কিন্তু কী অপরাধ ছিল আমার মেয়ের? কী কারণে সেদিন অত রাতে আমার মেয়েকে ডিউটি চলাকালীন খুন করা হল, সেই সত্য জানতে আজও আমি চাতকের মতো অপেক্ষা করছি।” ছাব্বিশের বঙ্গে ক্ষমতার পালাবদল হলেও, আরজি করের সেই ‘অভয়া’র স্মৃতি এবং তাঁর মায়ের এই লড়াই যে আজও গোটা রাজ্যের আপামর মানুষের অন্যতম প্রধান সেন্টিমেন্ট, শনিবার কল্যাণীর মঞ্চে রত্না দেবনাথের উপস্থিতি তা ফের একবার প্রমাণ করে দিল।

Related Articles