কলকাতা

১২টার আগেই ভবানী ভবনে এলেন অভিষেক, কুণালের মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করবে সিআইডি?

আইডি কার্ড দেখিয়ে সিআইডি দফতরে অভিষেক! কিছুক্ষণের মধ্যেই ঢুকছেন কুণাল

Truth of Bengal: রবিবাসরীয় দুপুরে ফের একবার বাংলায় হাই-ভোল্টেজ রাজনৈতিক ড্রামা! ঘড়ির কাঁটায় তখন ঠিক বেলা ১১টা ৪৩ মিনিট। কড়া নিরাপত্তা বলয় পার করে আলিপুরের সিআইডি (CID) সদর দফতর ভবানী ভবনে এসে পৌঁছাল ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) গাড়ি। বিধানসভার সই জালিয়াতি কাণ্ডে (Fake Signature Case) এই নিয়ে দ্বিতীয়বার রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের মুখোমুখি হলেন তিনি। তবে এদিন ভবানী ভবনে ঢোকার মুখে তৈরি হয় এক নজিরবিহীন দৃশ্য। গাড়ি থেকে নেমে অভিষেক সোজা ভবনের ভেতরে এগিয়ে গেলেও রিসেপশনে তাঁকে আটকে দেওয়া হয় এবং পরিচয়পত্র দেখতে চাওয়া হয়। পরে তাঁর এক সহযোগী তড়িঘড়ি গাড়ি থেকে অভিষেকের আইডি কার্ড (ID Card) এনে দেখালে তবেই ভেতরে ঢোকার অনুমতি পান সাংসদ।

কুণালকে দুপুর ৩টেয় তলব, নোটিসের তালিকায় মদন মিত্রও!

সিআইডি সূত্রে খবর, গত বৃহস্পতিবার টানা সাড়ে ৫ ঘণ্টার ম্যারাথন জেরায় অভিষেকের দেওয়া একাধিক উত্তরে তীব্র অসন্তুষ্ট ছিলেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। বহু প্রশ্নের সদুত্তর মেলেনি বলেই রবিবার ফের তাঁকে তলব করা হয়। তবে আজকের জেরা পর্ব আরও বিস্ফোরক হতে চলেছে, কারণ এই একই মামলায় এবার তলব করা হয়েছে বেলেঘাটার বিধায়ক তথা উত্তর কলকাতা তৃণমূলের নবনিযুক্ত সভাপতি কুণাল ঘোষকেও (Kunal Ghosh)।

আজ দুপুর ৩টের পর কুণালকে ভবানী ভবনে হাজির হতে বলা হয়েছে। গোয়েন্দাদের ধারণা, বিধানসভার সেই বিতর্কিত চিঠির সই সংক্রান্ত বিষয়ে কুণাল ঘোষের কাছেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে। এখানেই শেষ নয়, সূত্রের খবর, সই জাল কাণ্ডের জল এবার গড়িয়েছে কামারহাটি পর্যন্ত। আজ-কালের মধ্যেই কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রকেও (Madan Mitra) এই মামলায় হাজিরার নোটিস ধরাচ্ছে সিআইডি।

কালীঘাটের রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর আজ কী হবে?

গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টায় ভবানী ভবন থেকে বেরিয়ে সোজা কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বাড়িতে গিয়ে গভীর রাতে জরুরি বৈঠক করেছিলেন অভিষেক। কিন্তু আইনি রক্ষাকবচ থাকলেও সিআইডি-র বাউন্সার যেভাবে ধেয়ে আসছে, তাতে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব চরম উদ্বেগে।

শনিবার রাতেই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও সায়নী ঘোষের দলবদলের পর কুণাল ঘোষকে বড় দায়িত্ব দিয়েছিলেন মমতা। আর তার ১২ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই সেই কুণাল ও অভিষেককে একসঙ্গে সিআইডি দফতরে বসিয়ে মুখোমুখি জেরা করার এই পরিকল্পনা ছাব্বিশের বঙ্গে জোড়াফুল শিবিরের অস্বস্তি যে হাজার গুণ বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, রবিবারের এই ম্যারাথন জেরা শেষে ভবানী ভবন থেকে কী তথ্য সামনে আসে।

Related Articles