“অর্থের লোভ যদি থাকত..!”, মন্দিরের প্রণামীর বাক্স দখল বিতর্কে লাইভে এসে বিস্ফোরক রত্না দেবনাথ
বিধায়কের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে গোনা হবে মন্দিরের টাকা? অভয়ার বাবার বিরুদ্ধে ওঠা মারাত্মক অভিযোগে তোলপাড় বাংলা!
Truth of Bengal: পানিহাটির ঐতিহাসিক শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর ২০০ বছরের পুরোনো মন্দিরের প্রণামী বাক্স ‘দখলের চেষ্টা’র যে অভিযোগ অভয়ার বাবা শেখর দেবনাথের বিরুদ্ধে উঠেছিল, তা নিয়ে এবার চরম রাজনৈতিক বিস্ফোরণ ঘটালেন নিহত চিকিৎসকের মা তথা স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ। বুধবার সরাসরি ফেসবুক লাইভে এসে তিনি খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানালেন। তাঁর সাফ দাবি, ইচ্ছাকৃতভাবে চক্রান্ত করে তাঁর স্বামীর গায়ে দুর্নীতির কালি ছেটানোর চেষ্টা করছে তৃণমূলের একাংশ।
ফেসবুক লাইভে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ ও চড়া সুরে রত্না দেবনাথ বলেন, “আমার আর কোনও সন্তান নেই যে তার জন্য আমি বা আমার স্বামী অর্থের লোভ করব। আমাদের যদি সত্যিই টাকার লোভ থাকত, তবে কোটি টাকার প্রস্তাব ফিরিয়ে বিজেপির পতাকা ধরতে হত না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে আমাকে কোটি টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, আমরা তা নিইনি। অর্থলোভ থাকলে মেয়েকে ওভাবে কষ্ট করে ডাক্তারি পড়াতাম না। পানিহাটিতে তৃণমূলের নির্মল ঘোষরা দেখিয়েছেন রাজনীতি করে কীভাবে অর্থ উপার্জন ও লুঠ করতে হয়।”
ঠিক কী কারণে তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হচ্ছে, তারও আইনি ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিধায়ক। তিনি জানান, মন্দিরের বিপুল প্রণামীর টাকা যাতে নয়ছয় না হয়, তার জন্য তিনি মহকুমা শাসককে (SDO) একটি সরকারি ট্রাস্ট গঠন করতে বলেছেন। সেই ট্রাস্টের সদস্য পুরোহিতও থাকবেন। কিন্তু মন্দিরের টাকা কেউ নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থে লুঠ করতে পারবেন না। রত্না দেবনাথের দাবি, “তৃণমূল আর আগের মতো মন্দিরের টাকা লুঠ করতে পারছে না বলেই আজ পুরোহিতের এত গাত্রদাহ হচ্ছে।” একই সঙ্গে অভয়ার নামে সিনেমা তৈরি করে যাঁরা টাকা লুঠ করছেন, তাঁদেরও কড়া হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
প্রসঙ্গত, পানিহাটির দণ্ডমহোৎসব উপলক্ষে ওই মন্দিরে প্রতি বছর লক্ষাধিক ভক্তের সমাগম হয় এবং বিপুল প্রণামী জমা পড়ে। মন্দিরের সেবাইত বঙ্কুবিহারী বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ ছিল, মহোৎসবের আগের সন্ধ্যায় অভয়ার বাবা শেখর দেবনাথ কয়েকজন অনুগামীকে নিয়ে মন্দিরে এসে প্রণামী বাক্সের চাবি চান এবং টাকা বিধায়কের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে গোনার কথা বলেন। যদিও এই নিয়ে কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি এবং শেখরবাবুও এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। রত্না দেবনাথের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, এই ধরনের কুৎসা করে তাঁকে প্রতিবাদের পথ থেকে সরানো যাবে না।





