রাজ্যের খবর

পরিচারিকা থেকে সোজা শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায়! ‘কাজের মেয়ে’ কলিতার জন্য গর্বিত গৃহকর্তা

কাঠ-কয়লার উনুন, ভাঙা ঘর! মোদি-শাহের সেই ‘আশার বিন্দু’ আউশগ্রামের কলিতাই এখন রাজ্যের নতুন মন্ত্রী

Truth of Bengal: রাজনীতি যে ভাগ্যের চাকা ১৮০ ডিগ্রি ঘুরিয়ে দিতে পারে, তার এক জীবন্ত এবং নজিরবিহীন উদাহরণ তৈরি হলো ছাব্বিশের বাংলায়। মাস দুয়েক আগেও যিনি গুসকরার পাত্র পরিবারের বাড়িতে দায়িত্ব সহকারে দু’বেলা বাসন মাজা ও রান্নার কাজ করে পেট চালাতেন, সেই হতদরিদ্র পরিবারের মেয়েই সোমবার রাজভবনে শপথ নিলেন রাজ্যের নতুন মন্ত্রী হিসেবে। কথা হচ্ছে আউশগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক কলিতা মাজি (Kalita Majhi)-কে নিয়ে। জীবনের দ্বিতীয় লড়াইয়ে জয়ী হয়ে তিনি এবার সরাসরি স্থান পেলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নতুন মন্ত্রিসভায়। সোমবার টেলিভিশনের পর্দায় যখন তিনি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথবাক্য পাঠ করছেন, তখন আনন্দাশ্রু ধরে রাখতে পারেননি গুসকরা শহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা তথা তাঁর প্রাক্তন গৃহকর্তা প্লাটিলাল পাত্র ও তাঁর স্ত্রী।

“ও তো আমার কাজের মেয়ে নয়, আমার মেয়ে!”

কলিতাদেবীর এই রূপকথার উত্থানে আবেগঘন প্লাটিলালবাবু বলেন, “কলিতা আমার বাড়িতে কাজ করত ঠিকই, কিন্তু ওকে কোনওদিন কাজের মেয়ে ভাবিনি। ও আমার মেয়ের মতোই ছিল। বছর চারেক আগে আমার নিজের মেয়ে মারা যাওয়ার পর থেকে ও আমাকে ‘বাবা’ বলে ডাকত। আজ মনে হচ্ছে আমার হারিয়ে যাওয়া মেয়েটাই মন্ত্রীর চেয়ারে বসল। বাবা হিসেবে আমি ধন্য।” অন্যদিকে শপথ নিয়েই দিল্লি বা কলকাতার মোহে গা ভাসাননি কলিতা। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, “উনি আমার বাবার মতোই। আমি গুসকরায় ফিরেই সবার আগে ওঁর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করব।”

কয়লার উনুন থেকে ক্ষমতার অলিন্দে

গুসকরা পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পাত্রপাড়ায় মাত্র দুটি ছোট কামরার ভাঙা ঘরে বাস কলিতাদেবীদের। বাড়িতে এখনও কাঠ বা কয়লার জ্বালানিতেই রান্না হয়। বাপের বাড়ি এবং শ্বশুরবাড়ি, দুই পরিবারেই চরম দারিদ্র্য। ছয় বোনের মধ্যে কলিতার ২০০৭ সালে বিয়ে হয় পেশায় কলমিস্ত্রি সুব্রত মাজির সঙ্গে। সংসারের তীব্র অভাব মেটাতে ২০১১ সাল থেকে পরিচারিকার কাজ শুরু করেন কলিতা। এরপর ২০১৪ সালে বিজেপিতে যোগ দিয়ে রাজনীতিতে হাতেখড়ি। ২০২১ সালের নির্বাচনে দাঁড়ালেও প্রায় ১১ হাজার ভোটে হেরে যান। কিন্তু হাল ছাড়েননি। ২০২৬-এর এই নির্বাচনে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর হয়ে বীরভূমে প্রচার করেছিলেন। আর তাতেই কেল্লাফতে! এবার তৃণমূল প্রার্থীকে ১২,৫৩৫ ভোটে হারিয়ে বিধায়ক হন তিনি।

শাহের সেই ‘আশার বিন্দু’ই এবার মন্ত্রী

ফলাফল প্রকাশের পর খোদ দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দিল্লির বৈঠক থেকে কলিতা মাজির নাম উল্লেখ করে বলেছিলেন, “বাংলার সমস্ত হতদরিদ্র মা-বোনেদের কাছে কলিতা মাজি এক আশার বিন্দু। তিনি প্রমাণ করেছেন গরিবের প্রতিনিধিরাও বিধানসভায় বসতে পারেন।” তখনই রাজনৈতিক মহল আভাস পেয়েছিল বড়ো পদের। অবশেষে রবিবার বিকেলে কলকাতা থেকে ফোন আসে এবং সোমবার প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তিনি। কলিতার এই সাফল্যে গুসকরা জুড়ে এখন অকাল দীপাবলি, পকেটের টাকা দিয়ে পথচারীদের লাড্ডু খাওয়াচ্ছেন বিজেপি কর্মীরা। নতুন মন্ত্রী কলিতা মাজি বলেন, “দল আমাকে অত্যন্ত গুরুদায়িত্ব দিয়েছে। আমি আমার সবটুকু দিয়ে মানুষের জন্য কাজ করব।”

Related Articles