দেশ

আপ ছেড়ে পদ্মে আসতেই বড় পদ! সংসদের উচ্চকক্ষে দায়িত্ব পেলেন রাঘব চাড্ডা

শনিবারই তাঁর এই নতুন পদপ্রাপ্তির কথা ঘোষণা করা হল

Truth of Bengal: আম আদমি পার্টি (আপ) ছেড়ে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগদানের ঠিক একমাসের মাথায় বড় রাজনৈতিক পুরস্কার পেলেন রাজ্যসভার সাংসদ রাঘব চাড্ডা। সংসদের উচ্চকক্ষের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘পিটিশন কমিটি’র চেয়ারম্যান পদে মনোনীত করা হয়েছে তাঁকে। গত ২৪ এপ্রিল আপ-এর আরও ছয়জন রাজ্যসভা সাংসদকে সঙ্গে নিয়ে গেরুয়া শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন রাঘব। তার ঠিক একমাসের মাথায় শনিবারই তাঁর এই নতুন পদপ্রাপ্তির কথা ঘোষণা করা হলো।

শনিবার রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণণের দপ্তর থেকে জারি করা একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, রাজ্যসভার গুরুত্বপূর্ণ স্থায়ী কমিটি ‘পিটিশন কমিটি’র চেয়ারম্যান হিসেবে রাঘব চাড্ডাকে নিযুক্ত করা হয়েছে। সংসদের এই কমিটির মূল কাজ হলো দেশের সাধারণ নাগরিকদের কাছ থেকে আসা বিভিন্ন অভাব-অভিযোগ ও আবেদন খতিয়ে দেখে তার নিষ্পত্তি করা এবং সেই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে প্রয়োজনীয় মতামত বা সুপারিশ দেওয়া। শনিবার রাঘব চাড্ডাকে চেয়ারম্যান করার পাশাপাশি নতুন করে আরও ১০ জন সাংসদকে এই কমিটিতে মনোনীত করা হয়েছে। গত মাসেই ‘আম আদমি’র তকমা ঝেড়ে ফেলে নাটকীয়ভাবে বিজেপিতে যোগ দেন রাঘব চাড্ডা। শুধু নিজে একাই নন, অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দল ভেঙে তাঁর সঙ্গে পদ্ম শিবিরে শামিল হন আপ-এর আরও ৬ রাজ্যসভা সাংসদ— স্বাতী মালিওয়াল, হরভজন সিং, অশোক মিত্তল, সন্দীপ পাঠক, রাজিন্দর গুপ্তা এবং বিক্রম সাহানি। একসঙ্গে ৭ জন সাংসদের দলবদল যে দিল্লির শাসক দল আপ-এর জন্য এক বিরাট রাজনৈতিক ধাক্কা ছিল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

তৎকালীন সময়ে আম আদমি পার্টি ছাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রাঘব চাড্ডা আপ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “নিজের রক্ত-ঘাম দিয়ে আপ-কে লালন-পালন করেছি, আমার যৌবনের ১৫টা বছর এই দলকে দিয়েছি। কিন্তু বর্তমান আপ সম্পূর্ণ আদর্শচ্যুত হয়েছে। এই দলটা এখন আর দেশের স্বার্থে কাজ করে না, স্রেফ ব্যক্তিগত লাভের জন্য কাজ করে। তাই আপ ছেড়ে আমি ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দিয়েছি।” পাল্টা রাঘবের এই দলবদলকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন প্রবীণ আপ সাংসদ সঞ্জয় সিং। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যে দল তাঁকে রাজ্যসভার আসনসহ সব রকম রাজনৈতিক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে পরিচিতি দিল, শেষ পর্যন্ত সেই দলের সঙ্গেই বিশ্বাসঘাতকতা করলেন রাঘব।” তিনি আরও কটাক্ষ করেন যে, এতদিন ধরে রাঘব যে বিজেপির বিরুদ্ধে লাগাতার দুর্নীতির অভিযোগ তুলতেন, শেষ পর্যন্ত নিজের স্বার্থে সেই বিজেপির কোলেই গিয়ে বসলেন।

Related Articles