দেশ

মাত্র ১২ ঘণ্টায় জোড়া ধর্ষণ, দিল্লিতে আইআরএস আধিকারিকের কন্যাকে ধর্ষণ করে খুন, গ্রেফতার অভিযুক্ত

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত রাহুল মিনা রাজস্থানের অলওয়ার জেলার বাসিন্দা।

Truth Of Bengal: রাজধানী দিল্লিতে ফের শিউরে ওঠার মতো নারী নির্যাতনের ঘটনা সামনে এল। আইআরএস আধিকারিকের কন্যাকে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত রাহুল মিনা মাত্র ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে দু’টি ধর্ষণের ঘটনায় যুক্ত বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। প্রথম ঘটনাটি রাজস্থানের অলওয়ারে এবং দ্বিতীয়টি দিল্লিতে, যেখানে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে আইআরএস আধিকারিকের কন্যাকে।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত রাহুল মিনা রাজস্থানের অলওয়ার জেলার বাসিন্দা। মঙ্গলবার রাতে অলওয়ারে এক প্রতিবেশীর বাড়িতে জোর করে ঢুকে এক মহিলাকে ধর্ষণ করে সে। অভিযোগ অনুযায়ী, রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ ওই বাড়িতে ঢোকে রাহুল এবং ধর্ষণের পর নির্যাতিতাকে হুমকি দেয়—ঘটনা প্রকাশ্যে এলে গোটা পরিবারকে খুন করে দেবে। রাত ১১টা নাগাদ সেখান থেকে বেরিয়ে যায় সে। এরপর নির্যাতিতা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু ততক্ষণে অলওয়ার ছেড়ে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হয়ে গিয়েছে অভিযুক্ত। বুধবার সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ দিল্লিতে আইআরএস আধিকারিকের বাড়িতে ঢোকে রাহুল। ওই বাড়িতেই পরে নৃশংসভাবে খুন হন আধিকারিকের কন্যা। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, প্রথমে তাঁর গলা টিপে ধরা হয়, পরে ভারী কোনও বস্তু দিয়ে মাথায় আঘাত করে অচেতন করা হয়। এরপর অচেতন অবস্থায় তাঁকে ধর্ষণ করা হয় বলে সন্দেহ। পরে মোবাইল চার্জারের তার গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয় বলে পুলিশ মনে করছে।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, খুনের পর অভিযুক্ত ঘরের লকার খুলে টাকা ও গয়না নিয়ে পালিয়ে যায়। এমনকি ঘটনাস্থল থেকে বেরোনোর আগে পোশাক বদলেও নেয় সে। ঘটনার তদন্তে দিল্লি পুলিশ ১৫টি দল গঠন করে অভিযুক্তকে খুঁজতে নামে। শেষ পর্যন্ত বুধবারই দিল্লির একটি হোটেল থেকে রাহুল মিনাকে গ্রেফতার করা হয়।

উল্লেখ্য, অভিযুক্ত রাহুল আইআরএস আধিকারিকের বাড়িতে কাজ করত। নানা অপকর্মে যুক্ত থাকার অভিযোগ ওঠায় প্রায় মাসখানেক আগে তাকে কাজ থেকে বরখাস্ত করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান ছিল, চাকরি হারানোর প্রতিশোধ নিতেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে সে। তবে তদন্তে একের পর এক অপরাধের তথ্য উঠে আসায় রাহুলের অপরাধপ্রবণতা নিয়ে আরও উদ্বিগ্ন তদন্তকারীরা।

 

 

Related Articles