দেশ

মোদির আবেদনে সিলমোহর! এবার সপ্তাহে ২ দিন ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ ঘোষণা করল দিল্লি সরকার

প্রধানমন্ত্রীর সেই আর্জিকে গুরুত্ব দিয়ে এবার একগুচ্ছ কড়া পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করল দিল্লি সরকার

Truth of Bengal: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে ভারতে জ্বালানি সংকট দেখা দেওয়ায় দেশবাসীকে সংযমী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই কঠিন সময়ে পেট্রল ও ডিজেলের ব্যবহার কমাতে আমজনতাকে প্রয়োজনে বাড়ি থেকে কাজ বা ওয়ার্ক ফ্রম হোম করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সেই আর্জিকে গুরুত্ব দিয়ে এবার একগুচ্ছ কড়া পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করল দিল্লি সরকার।

বৃহস্পতিবার দিল্লির সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রশাসনের সমস্ত স্তরের কর্মচারীরা এখন থেকে সপ্তাহে দুই দিন বাড়ি থেকে অফিসের কাজ করবেন। এছাড়া সরকারি দপ্তরের অন্তত ৫০ শতাংশ বৈঠক সশরীরে না করে অনলাইনে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং জ্বালানির সাশ্রয় করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এরই সঙ্গে দিল্লি সরকার ও মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের অফিসের সময়সূচিতেও বড়সড় পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।জ্বালানি খরচ কমাতে দিল্লি সরকার তাদের কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দ পেট্রলের পরিমাণ ২০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি আগামী ছয় মাস নতুন কোনও সরকারি যানবাহন কেনা হবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষকে গণপরিবহণ ব্যবহারে উৎসাহিত করতে প্রতি সপ্তাহে একদিন মেট্রো ডে এবং নো-কার ডে পালন করার ডাক দিয়েছে প্রশাসন। সরকারি কলোনিগুলোতে বসবাসকারী কর্মচারীদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য ৫৮টি বিশেষ বাস চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি আমজনতার জীবনযাত্রার ক্ষেত্রেও বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি দেশবাসীকে আপাতত বিদেশযাত্রা ও বিয়ের অনুষ্ঠানে জাঁকজমক কাটছাঁট করার অনুরোধ জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে ভোজ্য তেলের ব্যবহার কমানো এবং আগামী এক বছর সোনা না কেনার আর্জি জানিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর মতে, দেশপ্রেম মানে কেবল সীমান্তে লড়াই করা নয়, দায়িত্বশীল জীবনযাপনের মাধ্যমে দেশের প্রতি কর্তব্য পালন করাও প্রকৃত দেশপ্রেমের পরিচয়। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি এই নির্দেশিকাগুলো আগামী দিনগুলোতে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।

Related Articles