‘রাহুলদা ঠিক আছে তো?’, হাসপাতালে কান্নায় ভেঙে পড়লেন শ্বেতা
Truth of Bengal: চোখের পলকে সবকিছু বদলে গেল। কিছুক্ষণ আগেও একসঙ্গে শুটিং করছিলেন, আর তার পরেই এমন মর্মান্তিক পরিণতি, এই বাস্তব মেনে নিতে পারছেন না অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্র। দিঘা হাসপাতাল থেকে প্রকাশ্যে আসা একটি ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, তিনি বারবার প্রশ্ন করছেন, “রাহুল দা কোথায়?”। তাঁকে সামলানোই কঠিন হয়ে উঠেছে।
রবিবার বিকেলে তালসারির সমুদ্রে ঘটে যায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পরে উদ্ধার করা হয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে। দ্রুত দিঘা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল মাত্র ৪৩ বছর।
এরপর তাঁর দেহ কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় ময়নাতদন্তের জন্য। সোমবার সকালে প্রাথমিকভাবে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা যায়, শরীরে অতিরিক্ত বালি ও জল ঢুকে পড়ে রাহুলের। ফুসফুসে জল জমেই মৃত্যু হয়েছে অভিনেতার।
‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিংয়ের জন্য তালসারিতে গিয়েছিলেন রাহুল ও তাঁর সহকর্মীরা। শ্বেতা মিশ্রও ছিলেন সেই ইউনিটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে খবর, শুটিং শেষ হওয়ার পর রাহুল ও শ্বেতা সমুদ্রের দিকে যান। হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়েন রাহুল। পরিস্থিতি বুঝে শ্বেতাই টেকনিশিয়ানদের ডেকে আনেন।
হাসপাতালের ভিডিওতে দেখা যায়, শ্বেতা বারবার বলছেন, “আমি তো ঠিক আছি, রাহুল দা ঠিক আছে তো? আমি ওর সঙ্গে কথা বলব”- তাঁর এই ভেঙে পড়া অবস্থা স্পষ্ট করে দেয়, কতটা আকস্মিক ছিল এই ঘটনা।
এই মৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে টলিপাড়ায়। বিজয়গড়ে রাহুলের বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন সহকর্মী ও ঘনিষ্ঠরা। পরিবারও শোকস্তব্ধ।
এক মুহূর্তে থেমে গেল এক উজ্জ্বল জীবনের পথচলা- আর সেই শূন্যতা এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না তাঁর কাছের মানুষরা।




