“শুভেন্দু অধিকারী আমার দাদা, দাদার কাজে আমি খুশি!”, প্রভাসের এনকাউন্টারে খুশি নির্যাতিতার বাবা
কথা রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী! পুলিশের এনকাউন্টারকে সাধুবাদ নির্যাতিতার বাবার
Truth of Bengal: বারুইপুরের নাবালিকা ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে রাজদণ্ড হাতে তুলে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ঘটনার তদন্তে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ৬ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট (SIT) গঠনের পর একে একে গ্রেফতার করা হয় চার মূল অভিযুক্ত, প্রভাস মণ্ডল, দিবাকর মণ্ডল, আনন্দ সর্দার ও কবীর মোল্লাকে। এর মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের পুলিশি এনকাউন্টারে মৃত্যুর পর এবার মুখ খুললেন স্বয়ং নির্যাতিতার পিতা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিজের ‘দাদা’ বলে সম্বোধন করে তাঁর কড়া পদক্ষেপকে কুর্নিশ জানালেন তিনি।
গত রবিবার সকালে বারুইপুরের হাড়হিম করা ঘটনার পর থেকেই সুবিচারের দাবিতে উত্তাল ছিল গোটা বাংলা। মঙ্গলবার খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বারুইপুর এসপি অফিসে গিয়ে নির্যাতিতার বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করে কড়া অ্যাকশনের আশ্বাস দিয়েছিলেন। আর সেই প্রতিশ্রুতির ১২ ঘণ্টা কাটার আগেই সূর্যপুরে ক্রাইম রিকনস্ট্রাকশনের সময় পুলিশের আগ্নেয়াস্ত্র কেড়ে নিয়ে গুলি চালানোর চেষ্টা করে অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল। আত্মরক্ষার্থে এবং শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর অর্ঘ্য মণ্ডল পাল্টা গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই খতম হয় প্রভাস। ওদিকে মঙ্গলবার গভীর রাতেই পুলিশের জালে ধরা পড়েছে এই ঘটনার চতুর্থ ঘাতক কবীর মোল্লা।
মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য পুলিশের এই অল-আউট অ্যাকশনে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে শোকস্তব্ধ পরিবার। নির্যাতিতার বাবা আবেগঘন গলায় বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আমার নিজের বড় দাদা। দাদা আমাকে কথা দিয়েছিলেন যে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষীরা শাস্তি পাবে এবং কেউ ছাড় পাবে না। দাদার ওপর আমার ১০০ ভাগ ভরসা আছে। দাদার এই কাজে আমি অত্যন্ত খুশি। পুলিশও খুব ভাল কাজ করেছে। আমার অবুঝ মেয়েটা যে এবার ওপর থেকে বিচার পাবে, সেই বিশ্বাস দাদা আমাকে দিয়েছেন।”
“ওর শাস্তি পাওয়াই উচিত ছিল”, প্রভাসের এনকাউন্টারে সিলমোহর দিল মা ও স্ত্রীও!
সাধারণত এনকাউন্টারের পর পরিবারের তরফে পুলিশি অতিসক্রিয়তার অভিযোগ উঠলেও, এই ক্ষেত্রে ছবিটা সম্পূর্ণ উল্টো। প্রভাসের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তার নিজের জন্মদাত্রী মা এবং স্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, যা হয়েছে একদম ঠিক হয়েছে। তাদের কথায়, “ও বরাবরই নোংরা চরিত্রের ছিল। কোনওদিন কারওর কথা শুনত না। সারাদিন নেশা করে পড়ে থাকত, কোনও কাজ করত না। একটা ছোট্ট বাচ্চার সঙ্গে ও যে জঘন্য পাপ করেছে, তার এই শাস্তিই হওয়া উচিত ছিল।” প্রভাসের মৃত্যুর পর সূর্যপুর ও বারুইপুরের পাড়া-প্রতিবেশীরাও মিষ্টি মুখ করে পুলিশের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
সূর্যপুরের এনকাউন্টার স্পটে অর্ঘ্য মণ্ডলের বীরত্ব, এলাকা শান্ত করতে কড়া নাকা চেকিং
পুলিশের শীর্ষ কর্তারা জানিয়েছেন, প্রভাস খতম হলেও বাকি তিন অভিযুক্ত দিবাকর মণ্ডল, আনন্দ সর্দার এবং সদ্য গ্রেপ্তার হওয়া কবীর মোল্লাকে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে তুলে দ্রুত ফাঁসির সাজা নিশ্চিত করাই এখন সিটের মূল লক্ষ্য। মঙ্গলবার রাতে কবীর মোল্লার ডেরায় হানা দিয়ে তাকে যেভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা ডিস্ট্রিক্ট পুলিশের এক বিরাট সাফল্য। অফিসার অর্ঘ্য মণ্ডলের সাহসিকতার প্রশংসা করেছে নবান্নও। দক্ষিণ ২৪ পরগনার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং নতুন করে কোনো মৌলবাদী উসকানি যাতে না ছড়ায়, তার জন্য বারুইপুরের প্রতি মোড়ে মোড়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করে কড়া নাকা চেকিং চালানো হচ্ছে।





