২০ দিনেই অসম্ভবকে সম্ভব করল ভারতীয় সেনা! মিরিকের দুধিয়ার বেইলি ব্রিজের উদ্বোধন শুভেন্দুর
সেনাবাহিনীর যুদ্ধকালীন তৎপরতার জয়! ২০ দিনের মাথায় চালু দুধিয়া ব্রিজ, সাংসদ রাজু বিস্তার বড় ধন্যবাদ
Truth of Bengal: উত্তরবঙ্গের পাহাড় ও সমতলের যোগাযোগের লাইফলাইন তথা মিরিকের দুধিয়া বেইলি ব্রিজ (Mirik’s Dudhia Bailey Bridge) নিয়ে এক অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখাল ভারতীয় সেনা ও নতুন রাজ্য সরকার। জুন মাসের প্রলয়ঙ্করী দুর্যোগ ও অতিবৃষ্টির জেরে ফুসে ওঠা বালাসন নদীর তীব্র জলের স্রোতে তাসের ঘরের মতো ভেসে গিয়েছিল দুধিয়ার অস্থায়ী হিউমপাইপ সেতুটি। ফলে শিলিগুড়ির সঙ্গে মিরিকের সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। কিন্তু দুর্যোগের ঠিক ২০ দিনের মাথায়, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সেই ভাঙা সেতুর জায়গায় এক চমৎকার নতুন বেইলি ব্রিজ খাড়া করে দিল ভারতীয় সেনাবাহিনী। আজ, বুধবার নবান্ন থেকে ভার্চুয়ালি এই মেগা সেতুর উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)।
গত জুন মাসে উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং ও পার্বত্য জেলাগুলিতে মেঘভাঙা বৃষ্টি এবং প্রবল প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে চলা বালাসন নদীর জলের তোড়ে ১২ নম্বর রাজ্য সড়কের ওপর থাকা দুধিয়ার হিউমপাইপের অস্থায়ী সেতুটির এক বিরাট অংশ ভেসে যায়। এর জেরে মিরিকের সঙ্গে শিলিগুড়ির সমস্ত রকমের যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়েছিল। পর্যটন মরশুমের মাঝে এমন বিপর্যয়ে পাহাড়ের অর্থনীতি যখন ধুঁকছিল, তখনই নবান্নের নির্দেশে আসরে নামে ভারতীয় সেনাবাহিনী (Indian Army)।
নদীর জলের গতি কিছুটা কমতেই সেনার ইঞ্জিনিয়ারিং উইং যুদ্ধকালীন তৎপরতায় দিনরাত এক করে বেইলি ব্রিজ তৈরির কাজ শুরু করে। অবিশ্বাস্যভাবে মাত্র ২০ দিনের মাথায় এই ব্রিজের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। আজ নবান্ন থেকে এই অতি গুরুত্বপূর্ণ সেতুর ভার্চুয়াল উদ্বোধন করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “সেনাবাহিনীর জওয়ানেরা পাহাড়ের মানুষের জন্য যে ত্যাগ ও গতিতে কাজ করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তাঁদের এই কাজের জন্য আমি গোটা রাজ্যবাসীর তরফে কুর্নিশ জানাচ্ছি। আজ থেকেই সাধারণ মানুষ ও পর্যটকেরা এই সেতু ব্যবহার করতে পারবেন।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সশরীরে হাজির মুখ্যসচিব ও রাজু বিস্তা, সেনার জওয়ানদের কুর্নিশ নবান্নের
নবান্নে আয়োজিত এই ভার্চুয়াল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল-সহ পূর্ত দফতরের শীর্ষ কর্তারা। ওদিকে শিলিগুড়ি ও পাহাড়ের প্রান্তে এই শুভক্ষণে হাজির ছিলেন দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা। দ্রুততম সময়ে পাহাড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা ফের সচল করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী ও ভারতীয় সেনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান সাংসদ। তিনি বলেন, “কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ও রাজ্য সরকারের এই যৌথ সমন্বয়ের ফলেই এত দ্রুত মিরিকবাসী তাঁদের যাতায়াতের মূল পথ ফিরে পেলেন।”
স্বস্তিতে মিরিক ও শিলিগুড়ির পর্যটন ব্যবসায়ী থেকে সাধারণ আমজনতা
দুধিয়ার এই বেইলি ব্রিজটি চালু হয়ে যাওয়ায় রাজ্য সড়ক দিয়ে আবারও শিলিগুড়ির সাথে সরাসরি যোগাযোগ সহজ হয়ে গেল মিরিকের। পাহাড়ের বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর ঘুরপথে যাতায়াত করতে গিয়ে সময় এবং অর্থ, দুই-ই দ্বিগুণ নষ্ট হচ্ছিল। নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ও কাঁচা আনাজ পাহাড়ে তুলতেও সমস্যায় পড়ছিলেন ব্যবসায়ীরা। নতুন বেইলি ব্রিজটি উদ্বোধনের পর পাহাড়ে যাতায়াতকারী পর্যটক ও স্থানীয় চালকদের মুখে চওড়া হাসি ফুটেছে। উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করতে আগামী দিনে বালাসনের ওপর একটি স্থায়ী ও আধুনিক কংক্রিটের সেতু নির্মাণের পরিকল্পনাও রাজ্য সরকারের রয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর।





