রাজ্যের খবর

মাঝরাতে সূর্যপুরে এনকাউন্টারের সেই রুদ্ধশ্বাস মুহূর্ত! কীভাবে পুলিশের পিস্তল কেড়েছিল প্রভাস?

মাঝরাতে ১ রাউন্ড গুলি আর পাল্টা এনকাউন্টার! সূর্যপুরে যেভাবে নিহত হল প্রভাস

Truth of Bengal: বিগত তৃণমূল সরকারের জমানায় বাংলায় একের পর এক নারী নির্যাতনের ঘটনায় বারবার কাঠগড়ায় উঠেছে পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা। তবে ২০২৬-এর ক্ষমতার পালাবদলের আগে শুভেন্দু অধিকারী গর্জে উঠে বলেছিলেন, “বিজেপি ক্ষমতায় এলে ধর্ষকদের কোর্টে পাঠাব না; সকালে জমা নেব, বিকেলে খরচ করব!” বারুইপুরের নৃশংস নাবালিকা হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় কার্যত সেই ‘স্পট জাস্টিস’ বা যোগীরাজ্যের এনকাউন্টার মডেলেরই বাস্তব রূপ দেখল বাংলা। মঙ্গলবার গভীর রাতে বারুইপুরের সূর্যপুরে ঠিক কী ঘটেছিল? রুদ্ধশ্বাস সেই অপারেশনের নেপথ্যে থাকা দুই দাপুটে ও ‘দাবাং’ অফিসারের আসল কীর্তি এবার সামনে এল।

বারুইপুর ধর্ষণ ও খুন কাণ্ডের তদন্তে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট (SIT) মঙ্গলবার দিনভর ধৃতদের ম্যারাথন জেরা করে। এরপর ঘড়ির কাঁটায় যখন রাত পৌনে ১টা, তখন প্রধান অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে সঙ্গে নিয়ে বারুইপুরের সূর্যপুরের সেই অন্ধকার অকুস্থলে পৌঁছান সিটের দুঁদে আধিকারিকরা। নিয়ম অনুযায়ী, ধৃতের বয়ানের সত্যতা যাচাই করতে ক্রাইম সিন পুনর্নিমাণের (Crime Scene Reconstruction) কাজ শুরু হতেই ঘটে সেই অভাবনীয় কাণ্ড!

পুলিশের দাবি, ডেসপ্যারেট প্রভাস আচমকা সিটের সদস্য তথা ক্যানিং থানার গুন্ডাদমন শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার রনি সরকারের কোমর থেকে সার্ভিস পিস্তলটি ছিনিয়ে নেয়। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই পুলিশকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলি চালায় সে। চোখের পলকে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠতেই বিপদ বুঝে আত্মরক্ষার্থে গর্জে ওঠেন বারুইপুর থানার গুন্ডাদমন শাখার ইনচার্জ অর্ঘ্য মণ্ডল। তাঁর নিখুঁত নিশানার পালটা গুলিতেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে খাঁচায় পোরা বাঘের মতো ছটফট করা প্রভাস। হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

নবান্নের ভরসার দুই ‘সিংহম’, চিনে নিন এনকাউন্টার অপারেশনের আসল নেপথ্য কারিগরদের

বারুইপুরের এই মেগা অপারেশনের নেপথ্যে থাকা দুই দুঁদে পুলিশ অফিসারের ট্র্যাক রেকর্ড কিন্তু অত্যন্ত কড়া। ২০১৪ ব্যাচের জাঁদরেল অফিসার অর্ঘ্য মণ্ডল বর্তমানে বারুইপুর থানার গুন্ডাদমন শাখার দায়িত্বে রয়েছেন। এর আগে সোনারপুর, কুলতলি ও জয়নগর থানার মতো ক্রাইম জ়োনে কাজ করার বিপুল অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। ছিলেন বারুইপুর এসওজি (SOG)-র ইনচার্জও। অন্যদিকে, যাঁর পিস্তল কেড়ে প্রভাস কামাল দেখাতে চেয়েছিল, সেই রনি সরকার এই মুহূর্তে ক্যানিং থানার গুন্ডাদমন শাখার দায়িত্বে। কেরিয়ারের শুরুতে কনস্টেবল হিসেবে যোগ দিলেও নিজের দক্ষতা ও বীরত্বের জোরে পরবর্তীতে এসআই (SI) পদোন্নতি পান তিনি। নরেন্দ্রপুর ও বকুলতলার মতো ডন-অধ্যুষিত এলাকায় কাজ করা রনি ও অর্ঘ্যের ওপরেই সিট গঠনের দিন ভরসা রেখেছিলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী।

‘কোর্টে নয়, স্পটেই হিসাব নিকাশ’, ছাব্বিশের বাংলায় অপরাধীদের জন্য কড়া বার্তা

তদন্তকারী মহলের মতে, এই এনকাউন্টার শুধু বারুইপুর কাণ্ডের সুবিচার নয়, বরং গোটা রাজ্যের অপরাধী ও দুষ্কৃতী সাম্রাজ্যের কাছে এক ভয়ঙ্কর কড়া প্রশাসনিক বার্তা। নির্বাচনের আগে দেওয়া শুভেন্দু অধিকারীর সেই “সকালে জমা, বিকেলে খরচ” স্লোগানটি যেভাবে পুলিশ মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কার্যকর করল, তা এক কথায় নজিরবিহীন। বিরোধী শিবির এই এনকাউন্টার নিয়ে আইনের প্রশ্ন তুললেও, আমজনতা এবং নির্যাতিতার পরিবার এই দুই ‘দাবাং’ অফিসারের সাহসিকতাকে স্যালুট জানাচ্ছে। বাকি তিন অভিযুক্তকে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে তোলার পাশাপাশি গোটা দক্ষিণ ২৪ পরগনা জুড়ে কড়া পুলিশি টহল জারি রাখা হয়েছে।

Related Articles