রাজ্যের খবর

ভোটার তালিকা ঘিরে বসিরহাটে চরম বিভ্রান্তি, সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে একসঙ্গে ৩৪০ জনের নাম বাদ!

খোদ বিএলও-র নামও সেই বাদ পড়া তালিকায় রয়েছে

Truth Of Bengal: বসিরহাটে ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বসিরহাট-২ ব্লকের বিবিপুর-বেগমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বড় গোবরা এলাকার ৫ নম্বর পার্টে একসঙ্গে ৩৪০ জন বিচারাধীন ভোটারের নাম বাদ পড়ার ঘটনা সামনে এসেছে। সবথেকে অবাক করার বিষয় হলো, ওই তালিকার ‘ডিলিটেড লিস্ট’-এ নাম রয়েছে খোদ বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও-র।

ঘটনার সূত্রপাত ৫ নম্বর পার্টের ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে। ওই এলাকায় মোট ৩৪০ জন ভোটারের আবেদন ‘আন্ডার অ্যাজুডিকেশন’ বা বিচারাধীন অবস্থায় ছিল। নিয়ম অনুযায়ী হিয়ারিং এবং নথিপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর সোমবার রাতে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশিত হয়। মঙ্গলবার সকালে হার্ড কপি হাতে আসতেই দেখা যায়, ওই ৩৪০ জনের প্রত্যেকের নামই তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। নিজেদের ভোটাধিকার হারানোর আশঙ্কায় ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা বিএলও মহম্মদ সফিউল আলমের দ্বারস্থ হলে জানা যায়, খোদ বিএলও-র নামও সেই বাদ পড়া তালিকায় রয়েছে।

বিএলও সফিউল আলম এই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছেন যে, তিনি নিজের দায়িত্ব পালন করে সমস্ত নথিপত্র যাচাই ও ডিজিটাইজ করেছিলেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, অধিকাংশ আবেদনকারীর কাগজপত্র সঠিক ছিল। কমিশনের নির্দিষ্ট গাইডলাইনের সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে অমিল থাকতে পারে, কিন্তু যাদের নথি সম্পূর্ণ সঠিক ছিল তাদের নামও কেন বাদ পড়ল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। সফিউল আরও অভিযোগ করেছেন যে, বিষয়টি ইআরও এবং এইআরও-দের জানানো হলেও তাঁরা যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছেন না, উল্টে আবেদনকারীদের ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর আর কিছু করার নেই বলেও তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। একটি নির্দিষ্ট পার্ট থেকে এত বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম একসঙ্গে বাদ যাওয়া নজিরবিহীন বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তবে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করে জানানো হয়েছে যে, আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। নাম বাদ পড়া ভোটারদের অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য রাজ্যজুড়ে মোট ১৯টি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে, যেখানে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিরা দায়িত্ব সামলাবেন।

Related Articles