রাজ্যের খবর

এসআইআর এর চাপ,মাঝ গঙ্গায় ঝাঁপ বিএলওর

শনিবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ হুগলির শ্রীরামপুর ফেরিঘাটে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে।

Truth Of Bengal: সৌগত রায়, হুগলি: নির্বাচন কমিশনের এসআইআর (SIR) বা ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজের প্রবল চাপ সামলাতে না পেরে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন এক স্কুল শিক্ষক তথা বিএলও (BLO)। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ হুগলির শ্রীরামপুর ফেরিঘাটে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, শ্রীরামপুর থেকে ব্যারাকপুরগামী যাত্রী বোঝাই একটি লঞ্চ যখন মাঝ গঙ্গায় পৌঁছায়, তখনই এক যাত্রী আচমকা নদী ঝাঁপ দেন। লঞ্চের কর্মীরা তৎক্ষণাৎ তৎপরতার সঙ্গে তাঁকে উদ্ধার করে প্রাণে বাঁচান। পরে শ্রীরামপুর থানার পুলিশ এসে ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

তদন্তে জানা গিয়েছে, আত্মহত্যার চেষ্টা করা ওই ব্যক্তির নাম মহঃ কায়ামুদ্দিন। তিনি উত্তর ২৪ পরগনার টিটাগড়ের বাসিন্দা এবং কাঁচরাপাড়ার একটি স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। বর্তমানে তিনি নির্বাচন কমিশনের বিএলও হিসেবে এসআইআর-এর কাজে নিযুক্ত ছিলেন। তাঁর অধীনে ১২৪৫ জন ভোটারের তালিকা সংশোধনের দায়িত্ব ছিল। উদ্ধার হওয়ার পর ওই শিক্ষক দাবি করেন, ভোটার তালিকার ডিজিটালাইজেশন বা অনলাইন সংক্রান্ত কাজে তিনি খুব একটা দক্ষ নন। এই নিয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের জানালেও কোনো সুরাহা হয়নি। উল্টে দিনের পর দিন কাজের চাপ বাড়তে থাকায় তিনি চরম মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। এদিন লঞ্চে নিজের ব্যাগ ও মোবাইল ফোন রেখেই তিনি গঙ্গায় ঝাঁপ দেন।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। শ্রীরামপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা শহর তৃণমূল সভাপতি সন্তোষ কুমার সিং ঘটনাস্থলে পৌঁছে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। তাঁর অভিযোগ, তড়িঘড়ি এসআইআর করতে গিয়ে কমিশন সাধারণ কর্মীদের ওপর অমানুষিক চাপ সৃষ্টি করছে। কায়ামুদ্দিন সাহেব ডিজিটাল কাজে ততটা পটু না হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে বাধ্য করা হয়েছে এই কাজ করতে। এমনকি বহু ভোটারের তথ্য সঠিক থাকা সত্ত্বেও তাঁদের বারবার শুনানিতে ডেকে হয়রান করা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। তৃণমূল নেতার মতে, বিজেপি এসআইআর-এর মাধ্যমে বাংলাকে দখলের চেষ্টা করছে এবং এই অমানবিক চাপের কারণেই ওই শিক্ষক আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন।