ভোটার তালিকায় একের পর এক গরমিল, মৃতের নামেও ‘ফাউন্ড ওকে’: স্বচ্ছতার প্রশ্নে কমিশন
কোথাও এআই দিয়ে তৈরি ভুয়ো ভোটার কার্ড জমা
Truth of Bengal: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর ও ‘সুপার চেকিং’ পর্বে সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর অনিয়ম। কোথাও মৃত ব্যক্তির নাম নথি-সহ সিস্টেমে আপলোড করে ‘ফাউন্ড ওকে’, কোথাও জন্মের ছ’দিন আগে ইস্যু হওয়া জন্ম শংসাপত্র, আবার কোথাও এআই দিয়ে তৈরি ভুয়ো ভোটার কার্ড জমা— এমন অভিযোগে উত্তাল নির্বাচনী মহল।দক্ষিণ ২৪ পরগনার ১৩৫ নম্বর মন্দিরবাজার বিধানসভা কেন্দ্রের পার্ট নম্বর ০১–এর শুনানি হয় ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, টেকপাঞ্জা হাই স্কুলে। নোটিস পাওয়া এক ভোটার নির্ধারিত তারিখে হাজিরা দেওয়ার আগেই মারা যান। শুনানিতে তাঁর ছেলে এসে বাবার মৃত্যুর কথা জানান। সংশ্লিষ্ট নথির উপরেই ‘মৃত’ বলে চিহ্নিত করা হয় এবং হাজিরা খাতাতেও ‘Death’ উল্লেখ থাকে। অভিযোগকারী তাতে স্বাক্ষরও করেননি।
কিন্তু পরে দেখা যায়, ওই ‘মৃত’ ভোটারের নাম ও নথি কমিশনের সিস্টেমে আপলোড করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, জেলা নির্বাচনী আধিকারিক তা যাচাই করেও ‘ঠিক’ বলে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ মৃত বলে নথিভুক্ত ব্যক্তির তথ্যই শেষ পর্যন্ত ‘ওকে’ হয়ে গিয়েছে! বিষয়টি সামনে আসতেই রোল অবজার্ভার সংশ্লিষ্ট ইআরও-এইআরও-র কাছে জবাব তলব করেছেন। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। একই বিধানসভা কেন্দ্রের ঘাটেশ্বর এলাকায় ধরা পড়েছে আরও এক অদ্ভুত অসঙ্গতি। এক ব্যক্তির জন্ম শংসাপত্রে দেখা যাচ্ছে, রেজিস্ট্রেশনের তারিখ ৭ নভেম্বর ২০০৩। অথচ জন্মতারিখ ১৩ নভেম্বর ২০০৩— অর্থাৎ জন্মের ছ’দিন আগেই সার্টিফিকেট ইস্যু! ঘটনাটি কমিশনের নজরে এসেছে এবং খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
এর আগে ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্রেও সামনে আসে আরেক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। জান্নাতুল মোল্লা নামে এক ভোটার এনুমারেশন ফর্ম জমা দিয়ে বাবার নাম হিসেবে হাসেম মোল্লাকে যুক্ত করেন। বাবার পরিচয়পত্র হিসেবে জমা দেওয়া হয় একটি ভোটার কার্ড। কমিশনের যাচাইয়ে জানা যায়, সেটি এআই-জেনারেটেড বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ভুয়ো নথি। কার্ডে ছবির নীচে ‘এআই’ লোগোও দেখা যায়।






