রাজ্যের খবর

SIR-এর কাজ সম্পূর্ণ করলেন মেদিনীপুরে ৫৬ রতনহাটি বুথের বিএলও, ভোটার সংখ্যা ছিল ৭১২

ইতিমধ্যেই তিনি জেলার ERO-র কাছে রিপোর্ট সাবমিট করে দিয়েছেন।

শান্তনু পান, পশ্চিম মেদিনীপুর:- রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই উত্তাল রাজ্য রাজনীতিতে। বারে বারে সরব হতে দেখা গেছে এ রাজ্যের শাসক দলকে। যখন বিভিন্ন জেলা থেকে বিএলও-রা কাজের চাপে অসুস্থ হয়ে পড়ছে, কলকাতার রাজপথে ধারণা কর্মসূচি পালন করছে, তো কোথাও আবার SIR এর কাজের চাপে আত্মহত্যার মতো পথ বেছে নিচ্ছে, ঠিক সেই সময় পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশপুর ব্লকের অন্তর্গত ৪ নম্বর গোলাড় গ্রাম পঞ্চায়েতের ৫৬ রতনহাটি বুথের বিএলও মহম্মদ হাম্মাদ আসমান ১০০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করেছে।

ইতিমধ্যেই তিনি জেলার ERO-র কাছে রিপোর্ট সাবমিট করে দিয়েছেন। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় প্রথম বিএলও এমুনারেশন ফর্ম বিলি ও জমা এবং অনলাইনে এন্ট্রি নিজে হাতে করে ১০০% কাজ সম্পন্ন করল। বিএলও মহম্মদ হাম্মাদ আসমান জানান, শুধু ভোটার তালিকা নিবিড় সংশোধন নয়, যে কোনও কাজ করতে গেলে তার জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা করা দরকার। যদি কেউ সেই পরিকল্পনা করে কাজ করে, তাহলে খুব সহজেই সেই কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব। আমাকে যখন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, আমি নিজের থেকে একটি পরিকল্পনা করে কাজটি শুরু করি এবং খুব কম দিনের মধ্যেই এই কাজটি অতি সহজেই আমি সম্পূর্ণ করতে সক্ষম হয়েছি।

কেশপুর ব্লকের দোগাছিয়া সিনিয়র মাদ্রাসায় কর্মরত এই বিএলও। তিনি ৪ নম্বর গোলাড় গ্রাম পঞ্চায়েতের ৫৬ রতনহাটি বুথের বিএলও। ৫৬ রতনহাটি বুথের মোট ভোটারের সংখ্যা ৭১২ জন। এমুনারেশন ফর্ম বিল এবং জমা করার সময় ৭১২ জন ভোটারের মধ্যে ১ জনকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ৫ জন ভোটার অন্যত্র চলে গেছেন, ৮ জন মৃত! ইতিমধ্যেই ৬৯৮ ভোটারের এমুনারেশন ফর্ম জমা নেওয়া এবং অনলাইনে এন্ট্রি সম্পূর্ণ হয়েছে।

বিএলও মহম্মদ হাম্মাদ আসমান রাজ্যের অন্যান্য বিএলও দের আবেদন জানিয়েছেন, বিভ্রান্ত না হয়ে, মাথা ঠান্ডা রেখে পরিকল্পনা করে কাজ করুন, খুব সহজেই কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন জেলার যিনি ERO রয়েছেন, তিনি অনেক সময় আমাকে সহযোগিতা করেছেন।

রতনহাটি বুথের ভোটার শেখ তাজরুল হাসান বলেন আমাদের বুথের BLO যদি জেলায় প্রথম তার কাজ সম্পন্ন করেন, এটা তো আমাদের কাছে খুশির খবর। উনি প্রত্যেক ভোটারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে, তাদেরকে সহযোগিতা করে এমুনারেশন ফর্ম পূরণ করে জমা নিয়েছেন। কেশপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি চিত্তরঞ্জন গরাই বিএলও-কে ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, কেশপুরের সকল BLA কর্মী এবং BLO-রা ভাল কাজ করছেন, তবে উনি খুব তাড়াতাড়ি কাজ সম্পন্ন করে জেলায় প্রথম হওয়ায় তা প্রশংসার যোগ্য। তবে শত বাধাকে উপেক্ষা করে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের মধ্যে দিয়ে নতুন ভোটার তালিকা প্রকাশ করাটাই এখন নির্বাচন কমিশনারের কাছে চ্যালেঞ্জ।

Related Articles