বিসিবিতে পরিবর্তনের হাওয়া! সিংহাসন টিকবে কি বুলবুলের?
বর্তমান বিসিবি বোর্ড গঠিত হয়েছিল মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে।
Truth Of Bengal: তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) বিপুল নির্বাচনী জয়ের পর রাজনৈতিক পালাবদলের হাওয়া লেগেছে দেশটির ক্রীড়াঙ্গনেও। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসতে চলেছেন তারেক। আর সেই সম্ভাবনাই কাঁপন ধরিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-র অন্দরে।
বোর্ডের অন্দরমহলে জোর জল্পনা—অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গঠিত বর্তমান পরিচালন পর্ষদ ভেঙে দিতে পারে নতুন সরকার। সেক্ষেত্রে পদ হারাতে পারেন বর্তমান সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল-সহ একাধিক পরিচালক।
বর্তমান বিসিবি বোর্ড গঠিত হয়েছিল মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে। বুলবুলের উত্থানের নেপথ্যে ছিলেন প্রাক্তন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। বোর্ডের একাধিক সদস্যকে জামাত ও এনসিপি-ঘনিষ্ঠ বলেও রাজনৈতিক মহলে চর্চা রয়েছে। ফলে বিএনপি ক্ষমতায় এলে বোর্ডের রদবদল যে সময়ের অপেক্ষা, তা কার্যত স্বীকার করে নিচ্ছেন অনেকেই।
বর্তমান বোর্ডের বিরুদ্ধে ক্ষোভও কম নয়। বিশ্বকাপে দলের ব্যর্থতা, ভারতের সঙ্গে অযথা তিক্ততা, এমনকি শাকিব আল হাসান-কে অবসর নিতে বাধ্য করার অভিযোগ—সব মিলিয়ে সমালোচনার মুখে বিসিবি। ঘরোয়া ক্রিকেটেও অচলাবস্থা ও প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এই পরিস্থিতিকেই হাতিয়ার করে দ্রুত বোর্ডে প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে বিএনপি শিবির।
বিসিবির শেষ নির্বাচনে তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন একটি গোষ্ঠী ভোট বয়কট করেছিল। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, তামিম-ঘনিষ্ঠ সেই প্যানেলই এখন নতুন সমীকরণে এগিয়ে। এমনকি ভবিষ্যতে বোর্ড সভাপতির আসনে তামিমের নামও জোরালোভাবে ঘুরছে। সে ক্ষেত্রে কৌশলগতভাবে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে বুলবুলকে।
যদিও বুলবুল শিবির এখনও আশাবাদী—সরকার শুরুতেই বিসিবির কাজে সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে না। বিসিবি স্বশাসিত সংস্থা হওয়ায় সরকারি হস্তক্ষেপ হলে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে পারে। বিশেষত বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগে নিষেধাজ্ঞার মতো কঠোর পদক্ষেপও নিতে পারে।
ফলে বোর্ড ভাঙতে হলে সাংবিধানিক পথেই এগোতে হবে। অভ্যন্তরীণ অনাস্থা প্রস্তাব বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই পরিবর্তন সম্ভব। নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেই সেই ঝুঁকিতে যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
তবে বিসিবির করিডরে একটাই কথা ঘুরছে—পরিবর্তন হয়তো আজ নয়, কাল। রাজনৈতিক পালাবদলের ঢেউ ক্রিকেট প্রশাসনেও আছড়ে পড়া এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।






