দেশ

Digital Arrest Scam: প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড় সেজে বৃদ্ধার ৩.৭১ কোটি টাকা লুট

প্রথমে পুলিশের পরিচয় দিয়ে তাঁকে ফোন করা হয়। জানানো হয়, তাঁর আধার কার্ড ব্যবহার করে একটি ভুয়া ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে এবং সেখান থেকে ৬ কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন হয়েছে।

Truth of Bengal: ডিজিটাল অ্যারেস্ট বা সাইবার প্রতারণার ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ও দুঃসাহসিক ঘটনা প্রকাশ্যে এল। এবার খোদ দেশের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ডি.ওয়াই. চন্দ্রচূড় সেজে মুম্বইয়ের এক বৃদ্ধার কাছ থেকে ৩.৭১ কোটি টাকা হাতিয়ে নিল প্রতারকেরা। ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে মুম্বইয়ের আন্ধেরি পশ্চিমের বাসিন্দা ওই বৃদ্ধার অভিযোগ, প্রতারণার জাল বোনা শুরু হয়েছিল গত অগস্ট মাস থেকে। প্রথমে পুলিশের পরিচয় দিয়ে তাঁকে ফোন করা হয়। জানানো হয়, তাঁর আধার কার্ড ব্যবহার করে একটি ভুয়া ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে এবং সেখান থেকে ৬ কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন হয়েছে। বৃদ্ধা অস্বীকার করলেও তাঁকে সিবিআই-এর লোগো দেওয়া একটি জাল এফআইআর (FIR) কপি পাঠিয়ে ভয় দেখানো হয়।

‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ ও প্রাক্তন প্রধান বিচারপতির প্রবেশ প্রতারকেরা শুধু ফোনেই ক্ষান্ত থাকেনি, বৃদ্ধাকে কার্যত ২৪ ঘণ্টা নজরদারিতে (Digital Arrest) রাখা শুরু করে। আতঙ্কের চরম পর্যায়ে পৌঁছায় যখন একটি ভিডিও কলে এক ব্যক্তি খোদ সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ডি.ওয়াই. চন্দ্রচূড় সেজে হাজির হন। নকল সেই বিচারপতি বৃদ্ধাকে জানান যে, তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে গিয়েছে এবং গ্রেফতারি এড়ানোর কোনও পথ নেই। কোটি কোটি টাকার প্রতারণা গ্রেফতারির ভয়ে কুঁকড়ে যাওয়া বৃদ্ধাকে প্রতারকেরা ‘পরিত্রাণের উপায়’ বাতলে দেয়। তাঁকে বলা হয়, সমস্ত নগদ টাকা আরটিজিএস-এর (RTGS) মাধ্যমে নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে পাঠাতে। এমনকি তাঁর জমানো মিউচুয়াল ফান্ড ভেঙেও টাকা পাঠাতে বাধ্য করা হয়। এভাবে দফায় দফায় মোট ৩ কোটি ৭১ লক্ষ টাকা খুইয়ে বসেন তিনি। সম্প্রতি প্রতারকেরা ফের টাকার দাবি করলে বৃদ্ধার সন্দেহ হয় এবং তিনি বুঝতে পারেন যে তিনি এক বিশাল চক্রের শিকার হয়েছেন।

তদন্ত শুরু ইতিমধ্যেই সাইবার সেলে অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই বৃদ্ধা। প্রতারকদের সঙ্গে হওয়া কথোপকথনের তথ্য, ভিডিও কলের সময় এবং ব্যাঙ্ক ট্রানজাকশনের সমস্ত নথি তিনি তদন্তকারীদের হাতে তুলে দিয়েছেন। প্রাক্তন প্রধান বিচারপতির নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে এমন দুঃসাহসিক জালিয়াতির ঘটনায় কপালে ভাঁজ পড়েছে দুঁদে তদন্তকারীদেরও।

Related Articles