দিল্লি বিস্ফোরণ কাণ্ড: এবার আটক হরিয়ানার এক চিকিৎসক
কল রেকর্ড খতিয়ে দেখেই তদন্তকারীরা পৌঁছন প্রিয়াঙ্কার কাছে।
Truth Of Bengal: দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন তথ্য ও নাম। এবার জম্মু ও কাশ্মীরের অনন্তনাগ থেকে আটক করা হল হরিয়ানার রোহতকের বাসিন্দা ও সরকারি মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক প্রিয়াঙ্কা শর্মাকে। শনিবার রাতে অনন্তনাগের মালাকনাগ এলাকার ভাড়াবাড়ি থেকে তাঁকে আটক করে জম্মু–কাশ্মীর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ।
উদ্ধার হয়েছে একটি মোবাইল ফোন ও সিম কার্ডও। সূত্রের খবর, এর আগেই গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্ত আদিলকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই প্রিয়াঙ্কার নাম উঠে আসে। আদিল জানিয়েছে, নাশকতা চক্রে জড়িত রয়েছে একাধিক ব্যক্তি— কেউ লজিস্টিক সাপোর্ট দিত, কেউ বা অর্থসাহায্য। কল রেকর্ড খতিয়ে দেখেই তদন্তকারীরা পৌঁছন প্রিয়াঙ্কার কাছে।
দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডে ধরা পড়া একাধিক চিকিৎসকের পর এবার আরও এক মহিলা চিকিৎসকের নাম উঠে আসায় তীব্র চাঞ্চল্য। সাধারণ মানুষের জীবন বাঁচানোর দায়িত্ব যাঁদের, সেই চিকিৎসকদেরই ব্যবহার করে তৈরি হয়েছিল একটি নাশকতা মডিউল। তদন্তকারীরা যার নাম দিয়েছেন ‘হোয়াইট কলার টেরর মডিউল’।ইতিমধ্যেই হরিয়ানার রোহতকে প্রিয়াঙ্কার ব্যাকগ্রাউন্ড খতিয়ে দেখতে যাচ্ছে তদন্তকারীদের একটি বিশেষ দল। পাশাপাশি, উত্তরপ্রদেশেও শুরু হয়েছে ব্যাপক তল্লাশি।
জানা গিয়েছে, কাশ্মীরি ছাত্রছাত্রীদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে বিভিন্ন কলেজ–বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে সন্ত্রাসদমন শাখা। নাশকতার ছককারী চিকিৎসক উমর, মুজম্মিল ও শাহিনের কাছে ২০ লক্ষ টাকার হাওয়ালা ট্রান্সফারের প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি গোয়েন্দাদের। এই অর্থ এসেছে পাকিস্তান-ঘনিষ্ঠ জঙ্গিগোষ্ঠী জইশ-ই-মহম্মদ–এর তরফে— এমনটাই অনুমান তদন্তকারীদের। এদিকে ফরেনসিক রিপোর্টে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রথমে মনে করা হলেও বিস্ফোরণে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট নয়, ব্যবহার করা হয়েছিল ভয়ংকর বিস্ফোরক ট্রায়াকিটোন ট্রাইপারক্সাইড।
দিল্লি বিস্ফোরণে মৃত ১৩ জন। হামলাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জঙ্গি হামলা বলা না হলেও তদন্ত স্পষ্টভাবেই সেই দিকেই ইঙ্গিত করছে। বিস্ফোরণস্থল থেকে ৯ মিমি-ক্যালিবারের তিনটি কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে— দুটি তাজা, একটি খালি। এই ধরনের গোলাবারুদ সাধারণত সেনাবাহিনী ছাড়া অন্য কারও ব্যবহারের অনুমতি নেই। যদিও ঘটনাস্থলে কোনও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়নি। গত কয়েক দিনে গ্রেফতার হয়েছেন আল-ফালাহ ইউনিভার্সিটির দুই চিকিৎসক মহম্মদ ও মুস্তাকিন, যাঁরা উমর নবীর ঘনিষ্ঠ বলে জানা যায়। মুজাম্মিল ও শাহিন সইদ নামে আরও দু’জন চিকিৎসক আগেই গ্রেফতার হয়েছে।






