Messi Legacy: নীল-সাদা জার্সির মহানায়কই ছিলেন মেসি, যাঁর ফুটবল সৌরভ ফুরিয়ে যাওয়ার নয়
তাঁর অবসরের পর কার হাতে থাকবে নীল-সাদা জার্সির স্টিয়ারিং তা নিয়ে তখন ধোঁয়াশা ছিল আপামর আর্জেন্টাইন ফ্যানদের মধ্যে। হয়ত তালিকায় ছিলেন অনেকেই
সুদীপ্ত ভট্টাচার্য: ১৯৮৬ সাল। মেক্সিকো বিশ্বকাপের আসরে ১০ নম্বর জার্সি গায়ে বাঁ পায়ের ফুটবল শিল্প দেখেছিলেন গোটা বিশ্ববাসী। প্রয়াত দিয়াগো আর্মান্দো মারাদোনা। যিনি নিজের ব্যক্তিগত ক্ষমতাবলেই লাতিন আমেরিকার এই দেশটিকে এনে দিয়েছিলেন বিশ্বকাপের খ্যাতি। এরপর তাঁর অবসরের পর কার হাতে থাকবে নীল-সাদা জার্সির স্টিয়ারিং তা নিয়ে তখন ধোঁয়াশা ছিল আপামর আর্জেন্টাইন ফ্যানদের মধ্যে। হয়ত তালিকায় ছিলেন অনেকেই, কিন্তু কেউই যেন মন জয় করতে পারছিলেন না (Messi Legacy)।
আরও পড়ুনঃ BJP: বিধানসভা নির্বাচনে মোদির মুখকে সামনে রেখেই লড়াই বঙ্গ বিজেপির
আর প্রয়াত মারাদোনার পর যিনি উত্তরসূরী হিসেবে উঠে এলেন তিনি লিওনেল মেসি। ছিপি ছিপে একটা ছেলে যে এইভাবে পরবর্তীকালে বিশ্ব ফুটবলের মঞ্চকে নাড়িয়ে দেবেন তা হয়ত কল্পনাও করেননি অনেকে। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছিল সেটা। সালটা ছিল ২০০৫ সালের ১৭ অগাস্ট। প্রতিপক্ষ হাঙ্গেরি। নীল-সাদা জার্সি গায়ে শুরু হল এক নতুন অধ্যায়ের। যে অধ্যায়ের গল্পগুলি আজীবন থেকে যাবে ইতিহাসের পাতায় পাতায়। লড়াই, লড়াই আর লড়াই। একটাই মূল মন্ত্র। সাফল্যের দিনে হাসিতে উজ্জ্বল সেই সুন্দর মুখখানিতে ঝলসে পড়তে দেখা যেত মধুর হাসির বিচ্ছুরণ। সেখানে ছিল না কোনও অহঙ্কারের বার্তা। ২০০৬ সালে আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে প্রথম বিশ্বকাপের মহারণে প্রতিপক্ষ সার্বিয়ার বিপক্ষে প্রথম গোল পেলেন লিও। পরিবর্ত হিসেবে মাঠে নেমে গোলের খাতা খুলে ফেললেন ১৮ বছর বয়সী লাতিন আমেরিকার এক তরুণ। সেদিন থেকে হয়ত লিও বার্তা বিশ্বফুটবলের মঞ্চে বার্তা দিয়েছিলেন, প্রয়াত দিয়াগোর পর আর্জেন্টাইনদের নতুন হিরো হিসেবে এসে গিয়েছেন (Messi Legacy)।
পরের বিশ্বকাপে মেসি করলেন চারটি গোল। তবে ২০১৮ বিশ্বকাপে একটি গোল ছাড়া কোনও গোলই করতে পারেননি লিও। কিন্তু ২০২২-র বিশ্বকাপে সাতটি গোল করে জবাব দিলেন সমস্ত সমালোচনার। কাতারের মাটিতে রুক্ষ বালির বুকে অধরা থাকা বিশ্বকাপ জয় করার পাশাপাশি যে ফুটবল শিল্প মেসি এঁকেছিলেন, তা কোনওদিনই ভোলার নয়। বিশ্বকাপ কিংবা কোপা আমেরিকা জয় পাওয়া নিয়ে তাঁকে সমালোচনার বানেও বিদ্ধ হতে হয়েছিল একটা সময়। কেউ কেউ বলেছিলেন, মেসি ক্লাব ফুটবলে সফল, দেশের জার্সিতে নয়। মুচকি হেসে সেই সমালোচনার জবাব দেওয়া শুরু করেছিলেন ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা জয় দিয়ে। পরের বছরই কাতারের মাটিতে বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে মারাদোনার পর আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ এনে দিয়েছিলেন লিও (Messi Legacy)।
Truth of Bengal fb page: https://www.facebook.com/truthofbengal
কাজেই আর্জেন্টিনার বর্তমান মহানায়কের বিদায়ী ম্যাচে গ্যালারি থেকে গগণভেদী আওয়াজ ওঠে ‘ওলে, ওলে, ওলে, লিও, লিও।’ কিন্তু যাঁকে নিয়ে এত আবেগ, এত কিছু, তিনি আগের মতোই নির্বিকার। শুধু বললেন, ‘এভাবেই শেষ করতে চেয়েছিলাম। যেখানে আমার প্রিয়জনেরা সবাই উপস্থিত থাকবেন।’ সত্যিই বিদায় এইরকম অধ্যায়ের মধ্য দিয়েই ঘটে। কিন্তু স্টেডিয়ামে দাঁড়িয়ে এক আর্জেন্টাইন ভক্ত বলে উঠলেন, ‘মেসির ফুটবল শিল্প কোনওদিনই মুছে যাবে না।’ আবার কেউ কেউ গান ধরেছিলেন, ‘লিও মেসি আছে সাথে, পুরো পথ পাড়ি দেব একসাথে।’ শুক্রবার এস্তাদিও মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে যখন ম্যাচের শেষ বাঁশিটি রেফারি বাজানোর সঙ্গে সঙ্গে শুধু মেসি বিদায় নিলেন না, বিদায় নিল সহস্র আবেগ, সহস্র ভালবাসা-ও (Messi Legacy)।






