দেশ

প্রয়াত ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, পিতৃহারা হেমন্ত সরেনের সঙ্গে দেখা করলেন প্রধানমন্ত্রী

সোমবার সকাল ৮টা ৫৬ মিনিটে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স ছিল ৮১ বছর।

Truth Of Bengal: প্রাক্তন ঝাড়খণ্ড মুখ্যমন্ত্রী ও ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম)-এর প্রতিষ্ঠাতা শিবু সোরেনের (Shibu Soren) প্রয়াণে শ্রদ্ধা জানাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দিল্লির স্যার গঙ্গারাম হাসপাতালে যান। প্রায় এক মাস ধরে কিডনিজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন শিবু সোরেন। সোমবার সকাল ৮টা ৫৬ মিনিটে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স ছিল ৮১ বছর।

প্রধানমন্ত্রী শিবু সোরেনের (Shibu Soren) পুত্র ও বর্তমান ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে শোকপ্রকাশ করেন। এক্স হ্যান্ডেলে-এ সেই মুহুর্তের ছবি পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “শ্রী শিবু সোরেনজিকে শ্রদ্ধা জানাতে স্যার গঙ্গারাম হাসপাতালে গিয়েছিলাম। তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও দেখা হয়েছে। আমার ভাবনা হেমন্তজি, কল্পনাজি ও শ্রী শিবু সোরেন জির অনুরাগীদের সঙ্গে রয়েছে।”

এদিন সকালে এই শোকাহত সংবাদ পাওয়া মাত্রই প্রধানমন্ত্রী এক্স-এ লিখেছিলেন, “শ্রী শিবু সোরেনজি ছিলেন এক মাটির মানুষ, যিনি আমজনতার প্রতি অটল নিষ্ঠার মাধ্যমে গণজীবনে উন্নীত হন। তিনি বিশেষভাবে আদিবাসী সমাজ, গরিব ও পিছিয়ে পড়া মানুষের ক্ষমতায়নের জন্য নিবেদিত ছিলেন।”

তিনি আরও যুক্ত করেন, “তাঁর প্রয়াণে আমি গভীরভাবে ব্যথিত। আমার সমবেদনা তাঁর পরিবার ও অনুরাগীদের সঙ্গে। ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনজির সঙ্গে কথা বলে শোকপ্রকাশ করেছি। ওম শান্তি।”

দীর্ঘ অসুস্থতার পরে ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট দিল্লির স্যার গঙ্গারাম হাসপাতালে প্রয়াত হন ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার প্রতিষ্ঠাতা এবং বর্ষীয়ান আদিবাসী নেতা শিবু সোরেন (Shibu Soren)। তাঁকে প্রায় এক মাস আগে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল কিডনির জটিলতার জন্য। এদিকে মৃত্যুর ছয় সপ্তাহ আগে তিনি স্ট্রোকের শিকার হন। শেষ এক মাস তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।

শিবু সোরেনের জন্ম ১৯৪৪ সালের ১১ জানুয়ারি, তৎকালীন বিহার (বর্তমানে ঝাড়খণ্ড)-এর রামগড় জেলার নেমরা গ্রামে। তিনি সাঁওতাল জনজাতির অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। ছোটবেলাতেই জীবন ছিল কঠিন, সুদখোরদের পেশাদার গুণ্ডারা তাঁর বাবাকে হত্যা করেছিল। সেই ঘটনার পর মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিনি গঠন করেন সাঁওতাল নবযুবক সংঘ। পরে ১৯৭২ সালে, এ.কে. রায় এবং বিনোদ বিহারী মাহাতোর সঙ্গে মিলিত হয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (JMM) একটি রাজনৈতিক সংগঠন, যার লক্ষ্য ছিল আদিবাসী ভূমির পুনরুদ্ধার এবং ঝাড়খণ্ডকে পৃথক রাজ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।

শিবু সোরেন (Shibu Soren) তিনবার ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হন। প্রথমবার ২০০৫ সালের ২ মার্চ থেকে ১২ মার্চ পর্যন্ত মাত্র ১০ দিনের জন্য মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। এরপর ২০০৮-২০০৯ এবং ২০০৯-২০১০ সময়কালে তিনি আরও দু’বার দায়িত্ব নেন। যদিও তাঁর মেয়াদগুলি ছিল সংক্ষিপ্ত, নবগঠিত ঝাড়খণ্ড রাজ্যের প্রাথমিক বছরগুলিতে তাঁর নেতৃত্ব ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

[আরও পড়ুন: Shibu Soren: “ঝাড়খণ্ডের আত্মাকে রুপ দিয়েছেন” প্রয়াত শিবু সোরেনের উদ্দেশ্যে বক্তব্য অভিষেকের]

তিনি বহুবার দুমকা লোকসভা কেন্দ্র থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন, লোকসভা ও রাজ্যসভা দু’ক্ষেত্রেই। তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় তিনবার কয়লা মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। একাধিক বিতর্ক সত্ত্বেও ঝাড়খণ্ড রাজনীতিতে তিনি দীর্ঘদিন প্রভাবশালী চরিত্র হিসেবে সক্রিয় ছিলেন।

শিবু সোরেন (Shibu Soren) রেখে গেছেন স্ত্রী রূপি কিস্কু, তিন পুত্র দুর্গা, হেমন্ত এবং বসন্ত, এবং এক কন্যা অঞ্জলি। তাঁর বড় ছেলে দুর্গা সোরেন প্রাক্তন বিধায়ক ছিলেন। বসন্ত সোরেন বর্তমানে JMM-র যুব শাখার প্রধান এবং একজন বিধায়ক। ছোট ছেলে হেমন্ত সোরেন বর্তমানে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী এবং পিতার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহন করে চলেছেন।

Related Articles