সম্পাদকীয়

RathYatra Fair: রথের মেলা, বসেছে রথতলায়

Once filled with childhood wonder and festive spirit, the Rath Fair has faded into memory.

Truth Of Bengal: ‘রথের মেলা, রথের মেলা, বসেছে রথতলায়।’ প্রবাদপ্রতিম শিল্পী সনৎ সিংহর এই গানটি শোনেননি এমন বাঙালির সংখ্যা বোধহয় হাতে গোনা যায় (RathYatra Fair)। রেডিয়ো ও রেকর্ডের অবদানে এই গানটি এখনও শোনা যায়। কিন্তু এখন আর রথতলাতে রথের মেলা বসে না। এখনকার রথতলাগুলি কংক্রিটের জঙ্গল হয়ে গেছে। বড় বড় ইমারত উঠেছে। রথ টানার সেই মনটাও কি আছে? আমার না হয় বয়স হয়েছে, কিন্তু আজকের শিশু কি রথযাত্রার দিনটি এসে গেল বলে আমোদিত হয়? মনে তো হয় না। রথযাত্রা আজ ক্যালেন্ডারের একটা দিন হয়ে গেছে। আর কিছু নয়।

[আরও পড়ুন: Workplace Privacy: ছুটিতে গিয়েও নেই রেহাই? মহিলার কাছে লাইভ লোকেশন চাইলেন বস! সমাজমাধ্যমে তুমুল বিতর্ক]

আমাদের ছেলেবেলায় রথ কবে আসবে সেই দিনটার জন্যে তাকিয়ে থাকতাম। আমরা থাকতাম তখন সাহেবি একটা এস্টেটে। আমাদের সেই সাহেবি এস্টেট থেকে রিক্সার দূরত্বে বাঁশবেড়িযার সন্তান সংঘের মাঠে রথের মেলা বসতো। তখন রথে জগন্নাথ দেব, বলভদ্র আর সুভদ্রার থেকে রথের মেলার আকর্ষণ ছিল বেশি। ঘাড়নাড়া বুড়ো, মাটির নানা ধরনের পুতুল, গামলার জলে ভুটভুট করে চলা স্টিমার আমাদের সম্মোহিত করতো। মা-দিদিরা কাচের চুড়ি, বেলোয়ারি টিপ কিনতেন মেলা থেকে। আমাদের নজরে থাকতো খাঁচায় বন্দি খরগোশ কিংবা বিলিতি ইঁদুরের দিকে। পরে জ্ঞানবুদ্ধি হওয়ার পর জেনেছি ওগুলোর নাম গিনিপিগ (RathYatra Fair)।

খাঁচায় বন্দি টিয়া-ময়নারাও আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতো। আর আকর্ষণ ছিল স্পাইডারগার্ল অথবা মিনি চিড়িয়াখানার। চোখের সামনে জলজ্যান্ত একটি মেয়েকে মাকড়সায় পরিণত করার কারিগরকে পরদিনই বিড়ি টানতে টানতে এস্টেটের বাড়ির চাল, ওড়বাড়ির মুলো সংগ্রহ করতে দেখে যতটা না বিস্ময় জাগতো, তার থেকে অনেক বিস্ময় লুকিয়ে থাকতো রথের দিনের বৃষ্টিতে। রথের দিনে বৃষ্টি আজও হয়। রথের দিন পাঁপড়ভাঙা কিংবা জিলিপি খাওয়ার অবাধ লাইসেন্স মিলতো। টিনের ছোট ছোট রথ সাজানোর পালা চলতো দিনভর। তারপর আধ খাওয়া পাঁপড় হাতে রথের রশি ধরে টানাটানি (RathYatra Fair)।

মনে আছে, কার রথ সাজানো ভাল হয়েছে তাই নিয়ে একটা অলিখিত প্রতিযোগিতাও চলতো। আজকাল রথের মেলা আর সেইভাবে বসে না। কলকাতায় বিক্ষিপ্তভাবে মিছু রথের মেলা বসে বটে কিন্তু ভরদুপুরে রথতলাতে ছেলেরা আজ আর ভিড় করে না। আজকের শিশুরা রথের মাহাত্ম্য বুঝতে অক্ষম নাকি তাদের বিস্মিত হওয়ার ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে কিনা তা সমাজ বিজ্ঞানীরা বিচার করবেন। আমরা শুধু জানি যে রথের মেলা আর সেই ভাবে বসে না, টিনের রথও আজ সেই ভাবে টানা হয় না। বরং রথের দিনটি আজ সেলিব্রেট করা হয় বিরিয়ানি আর নরম-গরম পানীয় দিয়ে (RathYatra Fair)।

[আরও পড়ুন: Maheshtala: রাত থেকে নিখোঁজ যুবক, ভোরে বাড়ির পাশের পুকুর থেকে উদ্ধার দেহ]

পুরীতে ননদীঘোষ, তালধ্বজ আর দর্পদলন-এর রথের চাকার ঘরঘর ধ্বনি শুরু হল কি না হল রথ টানা শুরু হয়ে যেত। ইসকনের রথযাত্রার সময় ঝাড়ু দিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করা হয়। টিভিতে সেই ছবি দেখার জন্যে আমরা হুমড়ি খেয়ে পড়ি। বাজনার থেকে আজ খাজনা বেশি। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি আজকাল রথের ভিড় নিয়ন্ত্রণ করে। সেলিব্রিটিরা রথের রশিতে টান মারেন। সেলিব্রিটিদের দেখতে যাওয়ার ভিড়ে কে খোঁজ রাখে সেই শিশুটির যে আধ খাওয়া পাঁপড় নিয়ে রথের রশিতে টান দিয়েছিল, কবে সেই কোন অতীতে (RathYatra Fair)!

Related Articles