মুকুটমণিপুর উন্নয়ন পর্ষদের উদ্যোগ, শিল্পীদের হাতে সেজে উঠছে শহর
মুকুটমণিপুর উন্নয়ন পর্ষদের উদ্যোগে এই সৌন্দর্যায়ন প্রকল্প শুরু হয়েছে পর্যটন মরশুমের আগেই।
কৈলাস বিশ্বাস, বাঁকুড়া: উৎসব এবং পর্যটনের মরশুম শীত আসন্ন। শীতের আগমনে নতুন সাজে সেজে উঠছে বাঁকুড়ার রানি মুকুটমণিপুর। কংসাবতী জলাধারের পাড় ঘেঁষে চলা রাস্তা জুড়ে স্থানীয় শিল্পীদের হাতে ফুটে উঠছে রঙিন পথচিত্র। নৌকা, ময়ূর, হরিণ, মাছ—এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য ও সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি ধরা পড়ছে তাদের তুলির টানে।মুকুটমণিপুর উন্নয়ন পর্ষদের উদ্যোগে এই সৌন্দর্যায়ন প্রকল্প শুরু হয়েছে পর্যটন মরশুমের আগেই।
পর্ষদের চেয়ারপার্সন ও রাজ্যের মন্ত্রী জ্যোৎস্না মান্ডি জানান, ‘প্রতি বছরই শীতের আগে মুকুটমণিপুরকে নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এবছর স্থানীয় শিল্পীদের হাত ধরে পথচিত্রের মাধ্যমে এলাকার সৌন্দর্য আরও বাড়ানো হচ্ছে। পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতেই এই প্রকল্প।’ প্রায় ৩৩০ মিটার জুড়ে এই রঙিন আলপনা আঁকার কাজ শুরু হয়েছে জিরো পয়েন্ট থেকে। ১৫ জন স্থানীয় শিল্পী দল বেঁধে কাজ করছেন এবং তাঁদের লক্ষ্য, ১৫ দিনের মধ্যেই সম্পূর্ণ পথচিত্র শেষ করা। শিল্পী দয়াময় বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘ মুকুটমণিপুর আমাদের গর্ব। আমরা চাই এখানকার প্রকৃতি, প্রাণী ও সংস্কৃতি যেন রঙে রঙে ফুটে ওঠে। তাই স্থানীয় পরিচিত বিষয়গুলোকেই পথচিত্রে তুলে ধরছি।’
এই প্রকল্পের সূচনা হয়েছিল ২০১৭ সালে, মুখ্যমন্ত্রীর মুকুটমণিপুর সফরের সময়। তিনি নিজে শিল্পীদের কাজ দেখে প্রশংসা করেছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে পুরনো আলপনা মুছে যাওয়ায় ফের নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।ইতিমধ্যেই রঙিন রাস্তার পাশে থমকে ছবি তুলছেন পর্যটকরা।
কেউ কেউ বলছেন, ‘রাস্তার ওপর এমন সুন্দর আলপনা আগে কখনও দেখিনি।’ সামনেই ঠাণ্ডার আমেজ, শীতের মরশুম। তাই বহু পর্যটকের ডেস্টিনেশন মুকুটমণিপুর ৷ এবছর তাঁদের বাড়তি পাওনা রঙিন পথচিত্র। স্থানীয়দের আশা, আসন্ন শীতকালীন মরশুমে এই রঙিন পথচিত্রই হবে মুকুটমণিপুরের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।রঙের ছোঁয়ায় তাই আবারও নব রূপে ফুটে উঠছে কংসাবতীর তীরের মুকুটমণিপুর—যেখানে শিল্প, প্রকৃতি আর সংস্কৃতি মিশে তৈরি করছে অনন্য সৌন্দর্য।






