যাদবপুরের পর এবার বারাসত বিশ্ববিদ্যালয়! ব্লেডের কোপ, র*ক্তার*ক্তি কাণ্ডে রণক্ষেত্র ক্যাম্পাস
"ঘরে ঢুকে শিক্ষা দেওয়া হবে!", এবিভিপি-টিএমসিপি সংঘর্ষে উত্তপ্ত বারাসত, ঘটনাস্থলে পুলিশ!
Truth of Bengal: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তাণ্ডবের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ছাত্র সংঘর্ষে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠল উত্তর ২৪ পরগনার ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট ইউনিভার্সিটি’ বা বারাসত বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন্ন রাখিবন্ধন উৎসবের আয়োজন এবং তার সরকারি অনুদানকে কেন্দ্র করে এবিভিপি (ABVP) ও তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (TMCP) সমর্থকদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ বেধে যায়। দু’পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও মারামারিতে ব্লেডের কোপে গুরুতর আহত হয়েছেন এবিভিপির অন্তত দুই সদস্য। তাঁদের ঘাড়ে ও গলায় মারাত্মক আঘাত লাগায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়ালে তা সামাল দিতে ক্যাম্পাসে পৌঁছায় দত্তপুকুর থানার পুলিশ।
স্থানীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঘটনার সূত্রপাত হয় রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এমএ প্রথম বর্ষের ছাত্র অরূপকে ঘিরে। এবিভিপির অভিযোগ, কথা বলার অছিলায় অরূপ নামে ওই ছাত্রকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলে ডেকে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর করে টিএমসিপি সমর্থক আলতাফ ও তার সঙ্গীরা। খবর পেয়ে এবিভিপির সদস্যরা হস্টেলে পৌঁছালে দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি থেকে ব্লেডবাজি শুরু হয়ে যায়।
এবিভিপির বারাসত নগর সম্পাদক প্রীতম পাঠক অভিযোগ করে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা একটি রাখিবন্ধন উৎসবের আয়োজন করছিলাম, যার অনুদানের আবেদনে উপাচার্য (VC) সই করেছিলেন। এতেই টিএমসিপির আপত্তি। তারা বলে এবিভিপি কেন টাকা পাবে, আর তারা পাবে না? এই ঈর্ষা থেকেই অরূপ ও আমাদের ছাত্রদের ওপর ব্লেড নিয়ে হামলা চালানো হয়েছে।” এই ঘটনার প্রতিবাদে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে গেরুয়াপন্থী ছাত্র সংগঠনটি জানিয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন ‘জঙ্গিপনা’ চললে ঘরে ঢুকে শিক্ষা দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সঙ্গে সরাসরি ঘটনার যোগ অস্বীকার করেছে হস্টেলের আবাসিক ছাত্ররা। গিয়াস, রহমত ও শরিফদের পাল্টা দাবি, “আমরা কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নই, সাধারণ ছাত্র। এবিভিপির সশস্ত্র ক্যাডাররাই জোর করে হস্টেলে ঢুকে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে, এতে আমাদের ১০-১২ জন ছাত্র আহত হয়েছে।” এই নিয়ে বারাসতের স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক শংকর চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ তুলেছেন যে, টিএমসিপির বহিরাগত দুষ্কৃতীরাই ক্যাম্পাসে ঢুকে হামলা চালিয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার জে মার্সি জানিয়েছেন, পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং ঘটনার মূল কারণ জানতে উপাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।






