Truth of Bengal: রাখিবন্ধনের বিজ্ঞাপনে পোশাক নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন কৃতি সেনন। নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে পাল্টা জবাবও দিয়েছিলেন অভিনেত্রী। এবার সেই বিতর্কে কৃতির পাশে দাঁড়ালেন কংগ্রেস নেতা তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। মহিলাদের পোশাক, চলাফেরা এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিলেন তিনি। সম্প্রতি একটি গয়নার ব্র্যান্ডের রাখিবন্ধনের বিজ্ঞাপনে দেখা যায় কৃতিকে। ঘিয়ে রঙের ব্রালেট-ধাঁচের ব্লাউজ, সঙ্গে জ্যাকেট ও স্কার্ট—এই পোশাক নিয়েই শুরু হয় বিতর্ক। নেটাগরিকদের একাংশ প্রশ্ন তোলেন, রাখিবন্ধনের মতো পারিবারিক এবং ঐতিহ্যবাহী উৎসবের বিজ্ঞাপনে এমন পোশাক কতটা মানানসই?
সমালোচনার মুখে চুপ থাকেননি কৃতি। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সাবেক ফ্যাশনও বদলেছে। কিন্তু এখনও কোনও নারীর সংস্কৃতি বা ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধাকে তাঁর পোশাকের ভিত্তিতে বিচার করা হয়। কৃতির বক্তব্য, সংস্কৃতি পোশাকের গলার কাটে নয়, থাকে মানুষের মন ও মূল্যবোধে। একই সঙ্গে তাঁর প্রশ্ন—মহিলাদের কী পরা উচিত, তা ঠিক করে দেওয়ার প্রবণতা শেষ হবে কবে? কৃতির সেই বক্তব্যই নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে শেয়ার করেন রাহুল গাঁধী। তিনি লেখেন, কোনও মহিলা কী পোশাক পরবেন, কী করবেন অথবা কোথায় যাবেন—তা সম্পূর্ণ তাঁর নিজের সিদ্ধান্ত। সেই ব্যক্তিস্বাধীনতা প্রয়োগ করার জন্য মহিলাদের কটাক্ষ করা বন্ধ হওয়া উচিত বলেও বার্তা দেন তিনি।
সেখানেই থামেননি রাহুল। পোস্টের সঙ্গে ‘পুরুষতন্ত্র নিপাত যাক’—এই বার্তাও হ্যাশট্যাগে তুলে ধরেন। ফলে কৃতির পোশাক ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্ক এখন আর শুধু ফ্যাশন বা বিজ্ঞাপনে সীমাবদ্ধ নেই। আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে নারীর ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিও। রাহুলের মন্তব্যের পর সমাজমাধ্যমে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা। নেটিজেনদের একাংশ তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করে বলেছেন, কোনও মহিলার পোশাকের উপর ভিত্তি করে তাঁর সংস্কৃতি বা মূল্যবোধ বিচার করা অনুচিত। আবার অন্য অংশ রাখিবন্ধনের মতো উৎসবের বিজ্ঞাপনে পোশাকের প্রেক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মত দিয়েছেন।






