রাজ্যের খবর

বারুইপুরে বিজেপি কর্মীকে নৃশংস খুন! গ্রেফতার দলেরই নেতা-সহ ৪ জন

বিজেপি কর্মী খুনে তোলপাড় বারুইপুর! মূল অভিযুক্তকে নিয়ে জেলা নেতৃত্বের সাফাই ঘিরে শোরগোল!

Truth of Bengal: রাজ্যে ক্ষমতায় আসার মাত্র তিন মাসের মধ্যেই অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও রক্তক্ষয়ী রাজনীতির মারাত্মক অভিযোগ উঠল ক্ষমতাসীন বিজেপির বিরুদ্ধে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে দলেরই এক আদি ও সক্রিয় কর্মীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুনের ঘটনায় হাতেনাতে গ্রেফতার করা হল চার বিজেপি সদস্যকে। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের মূল চক্রী হিসেবে সুজন মণ্ডল নামে এক বিজেপি নেতার নাম উঠে এসেছে, যিনি বর্তমানে দল থেকে সাসপেন্ডেড বলে দাবি স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের। সোমবার গভীর রাতে বারুইপুর থানা এলাকার উত্তর ট্যাঙ্গারবেড়িয়ায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত চারজনের নাম সুজন মণ্ডল, কৃষ্ণ মণ্ডল, কনক মণ্ডল ও অনিল নাইয়া। ধৃতরা সকলেই স্থানীয় উত্তর ট্যাঙ্গারবেড়িয়ার বাসিন্দা। গত রবিবার রাতে বাপি প্রামাণিক নামে এলাকার এক অত্যন্ত পুরনো ও সক্রিয় বিজেপি কর্মীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর থেকেই এলাকা জুড়ে তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মৃতের পরিবারের তরফে দায়ের করা এফআইআরে সাসপেন্ডেড বিজেপি নেতা সুজন মণ্ডলকে এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী বলে অভিযুক্ত করা হয়।

পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার রাতে চারজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন বারুইপুর জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। জিজ্ঞাসাবাদে চারজনের বয়ানে একাধিক চরম অসঙ্গতি লক্ষ্য করায় শেষ পর্যন্ত তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের মঙ্গলবার বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হবে এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও অস্ত্র উদ্ধারের জন্য নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত বাপি প্রামাণিক দীর্ঘদিন ধরে এলাকার সক্রিয় বিজেপি কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তৎকালীন শাসকদল তৃণমূলের ভয়ে বিগত দশ বছরে অধিকাংশ সময়ই তাঁকে ঘরছাড়া অবস্থায় দিন কাটাতে হয়েছিল। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরই আশ্বস্ত হয়ে বাড়ি ফেরেন এবং নিজের সংস্থান চালাতে এলাকায় একটি নতুন দোকান খোলেন। কিন্তু পরিবারের দাবি, অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে সুজন মণ্ডল তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের সঙ্গে আঁতাত করে এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। যদিও গেরুয়া শিবিরের স্থানীয় জেলা নেতৃত্ব সমস্ত দায় ঝেড়ে ফেলে দাবি করেছে, মূল অভিযুক্ত সুজনের সাথে বর্তমানে দলের কোনো সম্পর্ক নেই এবং তাকে আগেই দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

Related Articles