আইন অমান্য কর্মসূচিতে অশান্তির জের! চুঁচুড়ায় গভীর রাতে গ্রেফতার প্রাক্তন সিপিএম বিধায়ক
দুই সিপিএম কর্মীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে হুগলির রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে
Truth of Bengal: চুঁচুড়ায় সিটুর আইন অমান্য কর্মসূচিকে ঘিরে অশান্তির ঘটনায় এবার গ্রেপ্তার হলেন উত্তরপাড়ার প্রাক্তন সিপিএম বিধায়ক শ্রুতিনাথ প্রহরাজ। সোমবার রাতে উত্তরপাড়ার বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে চুঁচুড়া থানার পুলিশ। একই ঘটনায় আরও দুই সিপিএম কর্মীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে হুগলির রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। সিপিএমের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন করতেই পুলিশকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
চলতি মাসের ১০ তারিখ চুঁচুড়ার ঘড়ির মোড়ে বাম শ্রমিক সংগঠন সিটুর আইন অমান্য কর্মসূচি ছিল। জেলাশাসকের দপ্তরের সামনে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যক বাম কর্মী-সমর্থক যোগ দেন। বিক্ষোভকারীরা যাতে জেলাশাসকের দপ্তরের ভিতরে ঢুকতে না পারেন, সেজন্য আগে থেকেই এলাকায় বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। একাধিক জায়গায় তৈরি করা হয় ব্যারিকেড। অভিযোগ, কর্মসূচি চলাকালীন বাম কর্মী-সমর্থকদের একাংশ ব্যারিকেড ভেঙে জেলাশাসকের দপ্তরের দিকে এগোনোর চেষ্টা করেন। এরপরই পুলিশের সঙ্গে তাঁদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে বলেও অভিযোগ। ঘটনায় কয়েকজন বাম কর্মী-সমর্থক আহত হন। দুই পুলিশকর্মীও জখম হয়েছিলেন বলে জানা যায়।
সেদিনই ৪০ জনের বেশি বাম কর্মী-সমর্থককে আটক করেছিল পুলিশ। পরে অধিকাংশকে ছেড়ে দেওয়া হলেও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন আদালতে তোলা হলে তাঁরা জামিন পান। সেই ঘটনার তদন্তের সূত্র ধরেই সোমবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয় সিপিএমের প্রবীণ নেতা তথা উত্তরপাড়ার প্রাক্তন বিধায়ক শ্রুতিনাথ প্রহরাজকে। তাঁর পাশাপাশি কোন্নগরের বাসিন্দা সিপিএম কর্মী দীপক চক্রবর্তী এবং অনুপম চক্রবর্তীকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
প্রাক্তন বিধায়ককে গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় সিপিএম নেতা-কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও সরব হয়েছে বাম নেতৃত্ব। তাদের দাবি, রাজ্যের শাসকদলের নির্দেশেই বিরোধীদের বিরুদ্ধে পুলিশকে ব্যবহার করা হচ্ছে। যদিও পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, আইন অমান্য কর্মসূচির দিন অশান্তি এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগের তদন্তের ভিত্তিতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।






