জাতগণনার প্রশ্নপত্রে বিভ্রান্তি, মোদিকে চিঠি কংগ্রেসের
কংগ্রেসের বক্তব্য, সামাজিক ন্যায়বিচারের বিভিন্ন নীতি এবং সরকারি প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়নের জন্য নির্ভরযোগ্য জাতিগত তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
Truth of Bengal: জনগণনার সঙ্গে জাতগণনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। তবে জাতিগত তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি নিয়ে এ বার সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বারস্থ হল কংগ্রেস। জাতগণনার জন্য তৈরি প্রশ্নমালায় বিভ্রান্তি ও ভুলের সম্ভাবনা রয়েছে—এই আশঙ্কা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি। তাঁদের দাবি, বর্তমান প্রশ্নমালা অবিলম্বে প্রত্যাহার করে আরও নির্ভুল পদ্ধতিতে জাতিগত তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হোক।
কংগ্রেসের বক্তব্য, সামাজিক ন্যায়বিচারের বিভিন্ন নীতি এবং সরকারি প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়নের জন্য নির্ভরযোগ্য জাতিগত তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতিতেই যদি ভুল থাকে, তা হলে পরবর্তী সময়ে সরকারি নীতি নির্ধারণ এবং বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর অবস্থান মূল্যায়নে সমস্যা তৈরি হতে পারে।
মোদিকে পাঠানো চিঠিতে খড়্গে ও রাহুলের আশঙ্কা, জাতিগত পরিচয় জানতে তৈরি প্রশ্নমালা অনেক ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। কারণ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একই জাতি ভিন্ন নামে, স্থানীয় নামে কিংবা বিভিন্ন উপগোষ্ঠীর নামে পরিচিত। ফলে প্রত্যেকটি নাম আলাদা ভাবে নথিভুক্ত করা হলে একই জাতি বহু ভাগে বিভক্ত হয়ে যেতে পারে।
কংগ্রেস নেতাদের মতে, এই ধরনের তথ্য সংগ্রহের ফলে অপ্রয়োজনীয় ভাবে বহু শ্রেণি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে সেই তথ্য একত্র করে বিশ্লেষণ করাও কঠিন হয়ে পড়তে পারে। ফলে জাতগণনার উদ্দেশ্যই ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
চিঠিতে কংগ্রেসের তরফে বলা হয়েছে, কোনও জনগোষ্ঠীর সদস্যসংখ্যা সঠিক ভাবে নথিভুক্ত না হলে সেই জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থানও যথাযথ ভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়। তাই জাতিগত তথ্য সংগ্রহের জন্য এমন পদ্ধতি গ্রহণ করা প্রয়োজন, যেখানে বিভ্রান্তি বা ভুলের সুযোগ যতটা সম্ভব কম থাকে।
কংগ্রেসের আরও দাবি, জাতিগত পরিচয় নথিভুক্ত করার ক্ষেত্রে স্থানীয় নাম, প্রচলিত নাম এবং একই জাতির বিভিন্ন আঞ্চলিক পরিচয়ের বিষয়টি বিশেষ ভাবে বিবেচনা করতে হবে। এই বিষয়গুলি উপেক্ষা করলে ভবিষ্যতে সংগৃহীত তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
প্রসঙ্গত, প্রথমে জনগণনার সঙ্গে জাতগণনা করা হবে না বলেই জানিয়েছিল কেন্দ্র। তবে ওবিসি সমাজের একাংশের আন্দোলন ও রাজনৈতিক চাপের পর অবস্থান বদলায় মোদি সরকার। পরে ঘোষণা করা হয়, জনগণনার সঙ্গেই জাতিগত তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
কেন্দ্রের ষোড়শ জনগণনা ২০২৭-এর প্রথম বিজ্ঞপ্তিতে ৩৩টি প্রশ্ন রাখা হয়েছিল। পরে দ্বিতীয় বিজ্ঞপ্তিতে প্রশ্নের সংখ্যা বেড়ে ৪০ হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, তথ্য সংগ্রহের সময় ধর্মীয় ও জাতিগত পরিচয়, বিশেষ করে তফসিলি জাতি ও জনজাতিভুক্ত কি না, সেই তথ্যও নেওয়া হবে। পাশাপাশি কোভিড টিকা নেওয়া হয়েছে কি না, সেই তথ্যও সংগ্রহের কথা রয়েছে।
জাতগণনার পদ্ধতি নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের আপত্তি নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে। এখন প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্র কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।






