রাজ্যের খবর

এবার বকখালির হোটেলগুলিতে সারপ্রাইজ ভিজিট প্রশাসনের! পর্যটকদের সুরক্ষায় বড় পদক্ষেপ

মঙ্গলবার বকখালির একাধিক হোটেলে আচমকা পরিদর্শনে গেল প্রশাসনের যৌথ দল। ছুটির দিন হোক কিংবা সপ্তাহান্ত, কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকা থেকে পর্যটকদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য বকখালি

Truth of Bengal: তারাপীঠ এবং নিউ মার্কেটের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর এবার পর্যটনকেন্দ্রগুলির হোটেল নিরাপত্তা নিয়ে তৎপর প্রশাসন। পর পর দুই ঘটনায় প্রাণহানির পর প্রশ্ন উঠেছে হোটেলগুলির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পর্যটকদের সুরক্ষা নিয়ে। সেই আবহেই মঙ্গলবার বকখালির একাধিক হোটেলে আচমকা পরিদর্শনে গেল প্রশাসনের যৌথ দল। ছুটির দিন হোক কিংবা সপ্তাহান্ত, কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকা থেকে পর্যটকদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য বকখালি। ফলে সেখানকার আবাসিক হোটেলগুলিতে পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে কি না, কোনও বিপদের সময়ে পর্যটকদের নিরাপদে বের করে আনার পরিকাঠামো কতটা প্রস্তুত—সবটাই সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন আধিকারিকরা।

মঙ্গলবার কাকদ্বীপ মহকুমা প্রশাসন, দমকল বিভাগ, নামখানা ব্লক প্রশাসন এবং স্থানীয় পুলিশের প্রতিনিধিদের নিয়ে তৈরি একটি যৌথ দল বকখালির একাধিক প্রথম সারির হোটেলে সারপ্রাইজ ভিজিট করে। আগাম কোনও খবর না দিয়েই হোটেলগুলিতে পৌঁছে যান আধিকারিকরা। পরিদর্শনের সময় খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হয় হোটেলগুলির ফায়ার সেফটি লাইসেন্স। অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রগুলি সচল রয়েছে কি না, সেগুলির মেয়াদ ঠিক আছে কি না, জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহারযোগ্য কি না—তাও দেখা হয়। পাশাপাশি হোটেলের রান্নাঘরে গ্যাস সিলিন্ডার ও অন্যান্য দাহ্য সামগ্রী কীভাবে রাখা হচ্ছে, সেখানে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাবিধি মানা হচ্ছে কি না, সেই বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখেন প্রশাসনের প্রতিনিধিরা।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিদর্শনের সময় একাধিক হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থায় ত্রুটি ধরা পড়েছে। কোথাও প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে সমস্যা, কোথাও আবার ফায়ার সেফটি সংক্রান্ত নিয়ম যথাযথভাবে মানা হয়নি বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন আধিকারিকরা। ঘটনাস্থলেই সংশ্লিষ্ট হোটেল মালিকদের পাশাপাশি স্থানীয় হোটেল অ্যাসোসিয়েশনকেও সতর্ক করা হয়। প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আগামী এক মাসের মধ্যে সমস্ত হোটেলকে প্রয়োজনীয় ফায়ার সেফটি লাইসেন্স নবীকরণ করতে হবে। একই সঙ্গে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ সচল রাখতে হবে এবং নির্ধারিত নিরাপত্তাবিধি মেনে চলতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিয়ম না মানলে কোনওরকম ছাড় দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে কাকদ্বীপ মহকুমা প্রশাসন। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট হোটেলের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ করা হবে। সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডগুলির পর পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই ধরনের অভিযান আগামী দিনেও চলবে বলে প্রশাসন সূত্রের খবর।