পাহাড়ে যানজট এড়াতে রোপওয়ে, সুন্দরবনে প্রমোদতরী! পর্যটন নিয়ে বড় চমক নবান্নের
মঙ্গলবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে পর্যটন দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়
Truth of Bengal: রাজ্যের পর্যটন মানচিত্রকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে একগুচ্ছ নতুন পরিকল্পনা নিল সরকার। দার্জিলিংয়ে যানজট এড়িয়ে পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগের জন্য রোপওয়ে পরিষেবা, সুন্দরবনে বিলাসবহুল প্রমোদতরী এবং দিঘা-মন্দারমণিতে স্পিডবোট চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, নবদ্বীপ-সহ রাজ্যের একাধিক পর্যটনকেন্দ্রকেও নতুনভাবে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে পর্যটন দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়। সেই বৈঠকেই পর্যটন পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং নতুন পরিষেবা চালুর বিষয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ, মুখ্যসচিব মনোজ আগারওয়াল, মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত, অর্থসচিব-সহ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা। নবান্ন সূত্রে খবর, পর্যটন দপ্তরের অধীনে থাকা বিভিন্ন সম্পত্তির আধুনিকীকরণ এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয়ের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
পাহাড়ি পর্যটনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় পরিকল্পনা দার্জিলিংয়ে রোপওয়ে পরিষেবা আরও বিস্তৃত করা। পর্যটকদের যাতে দীর্ঘ যানজটে আটকে না থেকে সহজেই পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। অন্যদিকে সুন্দরবনে নদীকেন্দ্রিক পর্যটনকে আরও জনপ্রিয় করতে বিলাসবহুল প্রমোদতরী বা রিভার ট্যুরিজম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। দিঘা ও মন্দারমণির মতো জনপ্রিয় সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের বিনোদনের জন্য স্পিডবোট পরিষেবা চালুর কথাও আলোচনা হয়েছে। তবে শুধুমাত্র বিনোদন নয়, পর্যটকদের নিরাপত্তাকেও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে চাইছে প্রশাসন। সুন্দরবন এবং দিঘা-মন্দারমণি এলাকায় জরুরি পরিস্থিতির জন্য ওয়াটার অ্যাম্বুল্যান্স ও রেসকিউ বোট প্রস্তুত রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নতুন পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার পাশাপাশি বাংলাকে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় ‘ওয়েডিং ডেস্টিনেশন’ হিসেবেও তুলে ধরতে চাইছে সরকার। সেই লক্ষ্যেও পর্যটন দপ্তরকে আলাদা পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিষেবা আরও দ্রুত ও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় কর্মী নিয়োগ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। বাংলার পাহাড়, সমুদ্র, জঙ্গল, নদী ও ঐতিহ্যবাহী পর্যটনকেন্দ্রগুলিকে জাতীয় স্তরে আরও জোরালোভাবে প্রচারের পরিকল্পনাও রয়েছে। সব মিলিয়ে পর্যটন দপ্তরের কাজকর্ম ও ভাবমূর্তিতে বড়সড় পরিবর্তন আনার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এই নতুন অধ্যায়ের প্রতীক হিসেবেই আগামী ৪ সেপ্টেম্বর জন্মাষ্টমীর দিন পর্যটন দপ্তরের নতুন লোগো উন্মোচনের পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে উপস্থিত থেকে নতুন লোগোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। মঙ্গলবার রাতেই সমাজমাধ্যমে বৈঠকের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরেন পর্যটনমন্ত্রী।






