রাজ্যের খবর

অ্যাম্বুলেন্সের স্টিয়ারিং থেকে ইসরো! নদিয়ার দেবজিতের স্বপ্নপূরণের গল্প

শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স চালক হিসেবে কাজ করতেন দেবজিৎ।

Truth of Bengal: অভাব আর প্রতিকূলতাকে হার মানিয়ে এক অনন্য সাফল্যের নজির গড়লেন নদিয়ার গাংনাপুরের দেবজিৎ ভদ্র। অত্যন্ত সাধারণ পরিবারের এই যুবক দীর্ঘদিন অ্যাম্বুলেন্স চালকের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি চালিয়ে গিয়েছেন পড়াশোনা। সেই পরিশ্রমের ফলেই এবার দেশের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর শ্রীহরিকোটার সতীশ ধওয়ন স্পেস সেন্টারে টেকনিশিয়ান ‘বি’ পদে নিয়োগের সুযোগ পেয়েছেন তিনি।

শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স চালক হিসেবে কাজ করতেন দেবজিৎ। প্রতিদিন দীর্ঘ সময়ের ডিউটির মধ্যেও পড়াশোনার অভ্যাস ছাড়েননি তিনি। ডিউটি রুমে সামান্য অবসর পেলেই বই খুলে বসতেন। আবার বাড়ি ফিরে রাতেও চলত প্রস্তুতি। কর্মজীবনের চাপের মধ্যেই নিজের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন তিনি।

সাফল্যের পথ অবশ্য সহজ ছিল না। একাধিক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় পাঁচ-ছ’বার ব্যর্থ হওয়ার পরও হাল ছাড়েননি দেবজিৎ। বরং প্রতিটি ব্যর্থতাকে নতুন প্রস্তুতির অনুপ্রেরণা হিসেবে নিয়েছেন। মহাকাশ গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার স্বপ্নই তাঁকে বারবার এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।

অবশেষে সেই দীর্ঘ লড়াইয়ের পুরস্কার মিলেছে। শ্রীহরিকোটার সতীশ ধওয়ন স্পেস সেন্টারে টেকনিশিয়ান ‘বি’ পদে যোগ দেওয়ার সুযোগ তাঁর জীবনে খুলে দিয়েছে নতুন অধ্যায়। অ্যাম্বুলেন্সের স্টিয়ারিং হাতে রোগীদের হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া থেকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রে কাজের সুযোগ—দেবজিতের এই যাত্রা নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণার।

তাঁর এই সাফল্যে খুশির আবহ পরিবার ও এলাকায়। আর্থিক সীমাবদ্ধতা, কঠিন কর্মজীবন এবং বারবার ব্যর্থতার পরও যে অধ্যবসায় ও লক্ষ্য স্থির রাখলে সাফল্য পাওয়া সম্ভব, দেবজিতের গল্প যেন তারই উদাহরণ।

Related Articles