ফ্রিজ তৃণমূলের ৩টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট! ৪৪০ কোটি টাকা আটকে যেতেই হাইকোর্টে ‘কালীঘাট তৃণমূল’
আচমকা থমকাল ৪৪০ কোটির লেনদেন! ১০ ‘ঋতপন্থী’ বিধায়কের এক চিঠিতেই কি খাঁড়া নামল তৃণমূলের ফান্ডে?
Truth of Bengal: বাংলার রাজনৈতিক মহলে এবার এক নজিরবিহীন ও তোলপাড় করা অর্থনৈতিক সংকট। আচমকাই ফ্রিজ বা ব্লক করে দেওয়া হয়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের তিনটি প্রধান ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট। যার জেরে সপ্তাহের শুরুতেই তীব্র আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ‘কালীঘাট তৃণমূল’। কার অনুমতিতে, কোন এক্তিয়ারে এবং ঠিক কী কারণে দলের এই গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টগুলি রাতারাতি বন্ধ করে দেওয়া হল, সেই প্রশ্ন তুলে এবার সরাসরি কলকাতা হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ চাইল ঘাসফুল শিবির।
আজ সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে জরুরি ভিত্তিতে মামলার আবেদন জানান তৃণমূলের আইনজীবীরা। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করায় আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এই মেগা মামলার আনুষ্ঠানিক শুনানি শুরু হতে চলেছে। জানা গিয়েছে, ফ্রিজ হওয়া তৃণমূলের ওই তিনটি অ্যাকাউন্ট মিলিয়ে বর্তমানে রয়েছে মোট ৪৪০ কোটি টাকা। বিধাননগর দক্ষিণ থানায় ‘ঋতপন্থী’ ১০ জন তৃণমূল বিধায়কের করা একটি লিখিত অভিযোগের ওপর ভিত্তি করেই ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ এই চরম পদক্ষেপ নিয়েছে বলে খবর। আপাতত এই অ্যাকাউন্টগুলি থেকে কোনও ধরনের আর্থিক লেনদেন করা যাবে না।
এই ঘটনার সূত্রপাত অবশ্য দিনকয়েক আগে। তৃণমূলের দীর্ঘদিনের কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস নিজেই দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার দাবি জানিয়ে একটি চাঞ্চল্যকর চিঠি লিখেছিলেন। সেই চিঠিকে প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেছিলেন, “ওই অ্যাকাউন্টে কাটমানির টাকা রয়েছে কি না, তা কে জানে? আমি অরূপ বিশ্বাসের বক্তব্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ সহমত এবং এর সঠিক তদন্ত হওয়া উচিত।” এই অভ্যন্তরীণ ডামাডোলের আবহেই গত শুক্রবার বিধাননগর দক্ষিণ থানায় ১০ জন ‘ঋতপন্থী’ তৃণমূল বিধায়ক অবিলম্বে অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ করার আইনি আর্জি জানান। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তে নেমে পুলিশ ও ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ অ্যাকাউন্ট তিনটি ফ্রিজ করে।
এদিকে, দলের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার মতো মারাত্মক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য অরূপ বিশ্বাসকে ইতিমধ্যেই কড়া শোকজ নোটিশ পাঠিয়েছে কালীঘাট। তবে সেই শোকজের জবাবে অরূপ বিশ্বাস পিছু হটার বান্দা নন। চিঠির পালটা উত্তরে তিনি দলের অ্যাকাউন্টের বিগত দিনের আর্থিক লেনদেনের ইতিহাস নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন এবং বড়সড় অনিয়মের ইঙ্গিত দিয়েছেন। বিশেষ করে, আগে থেকে সই করে রাখা (অ্যাডভান্স সাইনড) বেশ কয়েকটি চেক দলের ভেতরে ঠিক কোথায় এবং কার স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে, তা নিয়ে গভীর ধন্দ ও প্রশ্ন প্রকাশ করেছেন তিনি। সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের এই উত্তপ্ত রাজনৈতিক আবহে ৪৪০ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ এবং দলের ভেতরের এই গৃহযুদ্ধ তৃণমূলকে এক চরম অস্বস্তিতে ফেলে দিল।






