রাজ্যের খবর

ঘুষ নিতে গিয়ে ফাঁদে! জামবনিতে দুর্নীতি দমন শাখার জালে বিডিও অফিসের সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার

ঘুষের টাকা নিতেই বদলে গেল জলের রং! জামবনি বিডিও অফিসে চরম নাটকীয়তায় গ্রেফতার শীর্ষ আধিকারিক!

Truth of Bengal: সরকারি কাজের বিল পাস করানোর নামে লাখ লাখ টাকা ঘুষ দাবি! কিন্তু এবার আর পার পাইলেন না অভিযুক্ত আধিকারিক। রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখা বা ‘এন্টি করাপশন ব্যুরো’ (ACB)-র পাতা ফাঁদে পা দিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়লেন ঝাড়গ্রাম জেলার জামবনি ব্লকের গিধনি বিডিও অফিসের সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার বিমল সাহা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে গোটা এলাকায়।

ঘটনার সূত্রপাত একটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণকে কেন্দ্র করে। স্থানীয় ঠিকাদার পিন্টু মল্লিক গিধনিতে এই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি তৈরির কাজের বরাত পেয়েছিলেন। কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর নিজের বকেয়া বিল পাস করাতে তিনি বিডিও অফিসের সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার বিমল সাহার সঙ্গে দেখা করেন। অভিযোগ, সেই কাজের বিল ছাড়ার বিনিময়ে পিন্টু মল্লিকের কাছে সোজা ২ লক্ষ টাকা ঘুষ চেয়ে বসেন ওই ইঞ্জিনিয়ার।

বারবার ঘুষের টাকা দাবি করায় শেষমেশ রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখার শরণাপন্ন হন ঠিকাদার পিন্টু মল্লিক। তিনি ব্যুরোর দেওয়া বিশেষ টোল ফ্রি নম্বরে বিষয়টি বিস্তারিত জানান। অভিযোগ পাওয়ার পর আর সময় নষ্ট না করে দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিকরা ছক কষে ফাঁদ পাতেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুপুরে বিমল সাহাকে টাকা দিতে বিডিও অফিসে পৌঁছান পিন্টু। দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিকরা আগে থেকেই বিশেষ পাউডার মাখানো ২ লক্ষ টাকা দিয়ে রেখেছিলেন পিন্টুকে। বিমল সাহা সেই টাকা হাত বাড়িয়ে নেওয়া মাত্রই সেখানে উপস্থিত হন অ্যান্টি করাপশন ব্যুরোর সদস্যরা। এরপরই রাসায়নিক পরীক্ষা বা নোট ছোঁয়া হাত জলে ডোবাতেই জলের রং বদলে লাল হয়ে যায়! হাতেনাতে ধরা পড়েন বিমল সাহা।

আটকের পর বিডিও অফিসের ভেতরেই তাকে বসিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা একটানা জিজ্ঞাসাবাদ চালান এসিবি-র আধিকারিকরা। বাজেয়াপ্ত করা হয় ঘুষের ২ লক্ষ টাকা এবং খতিয়ে দেখা হয় তার ঘরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র। জানা গেছে, মাসছয়েক আগেই বোলপুরের বাসিন্দা বিমল সাহা জামবনি ব্লকে বদলি হয়ে এসেছিলেন। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করে পুলিশ। যদিও এই বিতর্কিত বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি ব্লক প্রশাসনের কোনও আধিকারিক।

ঘুষের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ, চালু বিশেষ হেল্পলাইন

দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তুলতে বর্তমানে বেশ আক্রমণাত্মক মেজাজে রয়েছে রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখা। সম্প্রতি এই শাখার আইজি পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন আইপিএস মুরলিধর শর্মা। তার নেতৃত্বেই সরকারি পদে বসে তোলাবাজি ও ঘুষ নেওয়া বন্ধ করতে বিশেষ সামাজিক বার্তা দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি দমন শাখার তরফে একটি জরুরি হেল্পলাইন নম্বর- ৯৮৩৬২৩৩৮৯১ প্রকাশ করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা দিয়ে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, যদি কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী কাজ করে দেওয়ার নামে ঘুষ চান, হুমকি দেন বা জোর করে টাকা আদায় করতে চান, তবে যেন সঙ্গে সঙ্গে এই নম্বরে যোগাযোগ করা হয়। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতেই এই পদেক্ষেপ বলে জানিয়েছে এসিবি।