“আর কতদিন সবাই বিচারের অপেক্ষা করবে?”, আর জি কর মামলায় হাইকোর্টে তুমুল ভর্ৎসিত সিবিআই!
"আগের তদন্ত সরিয়ে নতুন করে করুন!", সিবিআই-এর আইনজীবীর জবাবে মারাত্মক বিরক্ত বিচারপতি!
Truth of Bengal: আর জি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তদন্তে এবার কলকাতা হাইকোর্টে মারাত্মক প্রশ্নের মুখে পড়ল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (CBI)। বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চে এই হাইপ্রোফাইল মামলার শুনানি ছিল। শুনানির শুরু থেকেই সিবিআই-এর কাজের গতি ও তদন্তের রূপরেখা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিচারপতিরা। বেঞ্চের সরাসরি প্রশ্ন, “আর কতদিন সাধারণ মানুষ ও পরিবার বিচারের জন্য অপেক্ষা করবে?”
“দুই বছরে কী তদন্ত হল?” প্রশ্ন আইনজীবীদের
আদালতে অভয়ার বাবা-মায়ের আইনজীবী জয়ন্ত নারায়ণ চট্টোপাধ্যায় ও শীর্ষেন্দু সিংহ রায় সিবিআই-এর ভূমিকা নিয়ে চরম ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁরা অভিযোগ জানান, “গত দুই বছরে সিবিআই ঠিক কী তদন্ত করেছে, তার কোনও স্পষ্ট রূপরেখা নেই। নির্যাতিতার মায়ের বয়ান ও ভিডিও রেকর্ডিং জমা দেওয়া সত্ত্বেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ সূত্র এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘটনার শেষ রাতে সেমিনার রুমের আশেপাশে বা ভেতরে ১৬ জন উপস্থিত ছিল, অথচ তাদের অনেককেই ঠিকমতো জেরা করা হয়নি। সিবিআই যদি আমাদের দেওয়া অতিরিক্ত হলফনামা অনুযায়ী এগোত, তবে তদন্তে অনেক নতুন তথ্য সামনে আসত।”
অন্যদিকে, সিবিআই-এর আইনজীবী ধীরাজ ত্রিবেদী দাবি করেন, জুনিয়র চিকিৎসক সৌমিত্র রায়, যিনি নির্যাতিতার সঙ্গে শেষবার রাতের খাবার খেয়েছিলেন, তাঁর বয়ান নেওয়া এখনও বাকি। এই জবাবে অভয়ার পরিবারের আইনজীবীরা পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, “কেন ওই চিকিৎসককে এতদিনেও জেরা বা গ্রেফতার করা হল না?”
“নতুন করে তদন্ত শুরু করুন!”, বিরক্ত হাইকোর্ট
সিবিআই-এর তরফে আরও সময় চাওয়ায় চরম বিরক্তি প্রকাশ করেন বিচারপতি শম্পা সরকার। সিবিআই-এর পেশ করা রিপোর্ট দেখেই তিনি মন্তব্য করেন, “আপনাদের রিপোর্ট থেকেই স্পষ্ট যে তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং দেহ টেনে নিয়ে যাওয়ার উল্লেখ রয়েছে। আগের নির্দেশ আপনারা বুঝতেই পারেননি! ঘটনার দিন রাত থেকে শেষ পর্যন্ত কী কী ঘটেছে, তা নতুন করে আমাদের জানান। আগের ভুল তদন্ত সরিয়ে প্রয়োজন হলে নতুন করে তদন্ত শুরু করুন। এভাবে কতদিন একটা মামলা বিচারাধীন রাখা সম্ভব?”
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট আর জি করের সেমিনার হল থেকে অভয়ার নিথর দেহ উদ্ধার হয়েছিল। পরবর্তীতে সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ারের সাজা হলেও পরিবারের দাবি, এই জঘন্য অপরাধে আরও একাধিক প্রভাবশালীরা যুক্ত রয়েছে। আগামী ২৮ আগস্ট এই মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য করা হয়েছে।






