“সাংসদের ডিমকে ভয় পাওয়া উচিত নয়!” মহুয়া মৈত্রকে কড়া বার্তা দিয়ে আবেদন খারিজ সুপ্রিম কোর্টের
তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে এবং আগামী ১৪ অগস্ট তাঁকে সশরীরে থানায় হাজির হতে হবে
Truth of Bengal: ধর্মীয় অবমাননার মামলায় তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে সশরীরেই থানায় হাজিরা দিতে হবে। শুক্রবার তাঁর ভার্চুয়াল হাজিরার আবেদন গ্রহণ করেনি সুপ্রিম কোর্ট। শেষ পর্যন্ত শীর্ষ আদালত থেকে আবেদন প্রত্যাহার করে নেন মহুয়ার আইনজীবী। ফলে কলকাতা হাই কোর্টের আগের নির্দেশই বহাল থাকল। নদিয়ার হোগলাবেড়িয়া থানায় দায়ের হওয়া ধর্মীয় অবমাননার মামলায় মহুয়াকে ইতিমধ্যেই অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। গত ২১ জুলাই বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ জানিয়েছিল, অক্টোবর পর্যন্ত তাঁকে গ্রেফতার করা যাবে না। তবে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে এবং আগামী ১৪ অগস্ট তাঁকে সশরীরে থানায় হাজির হতে হবে। হাই কোর্টের সেই নির্দেশের একটি অংশকে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ। তাঁর আবেদন ছিল, থানায় শারীরিক ভাবে হাজির হওয়ার বদলে ভার্চুয়াল মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হোক।
বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি শীল নাগুর বেঞ্চে মহুয়ার হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণ। তিনি জানান, তদন্তে সহযোগিতা করতে তাঁর মক্কেলের কোনও আপত্তি নেই, তবে নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ভার্চুয়াল হাজিরার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। তখন বিচারপতি দত্ত প্রশ্ন তোলেন, সাংসদ বলেই কি তাঁকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে? পাল্টা যুক্তিতে মহুয়ার আইনজীবী সাম্প্রতিক ডিম ছোড়ার ঘটনার প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর দাবি, ওই এলাকাতেই এর আগে মহুয়াকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয়েছিল এবং হেনস্থার অভিযোগও রয়েছে। ফের থানায় গেলে একই ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। এই যুক্তির পরেই স্বাধীনতা সংগ্রামীদের উদাহরণ টানে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি দত্তের মৌখিক পর্যবেক্ষণ, রাজনীতিতে নেমে ডিম ছোড়ার মতো ঘটনায় ভয় পেলে চলবে না। স্বাধীনতা সংগ্রামীরা বুক পেতে গুলি খেয়েছিলেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। শীর্ষ আদালতের বক্তব্যের পর আর আবেদন এগিয়ে নিয়ে যাননি মহুয়ার আইনজীবী। মামলা প্রত্যাহারের অনুমতিও দেয় বেঞ্চ। এর ফলে আগামী ১৪ অগস্ট মহুয়াকে সশরীরে হোগলাবেড়িয়া থানায় হাজির হয়ে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে।
গত ১ জুলাই নদিয়ায় বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন মহুয়া। তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম এবং পাথর ছোড়া হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। সেই সময় বোরখা নিয়ে মহুয়ার একটি মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। পরে তাঁর বিরুদ্ধে থানায় ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ দায়ের হয়। রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ একাধিক তৃণমূল নেতাকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে কুণাল ঘোষ—একাধিক নেতা এই ধরনের ঘটনার মুখে পড়েছেন বলে তৃণমূলের অভিযোগ। যদিও বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য প্রকাশ্যেই ডিম ছোড়ার রাজনীতির বিরোধিতা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের আচরণ বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ নয় এবং বিজেপি কর্মীদের এর সঙ্গে যুক্ত করা ঠিক নয়। বিজেপির একাংশ আবার এই ঘটনাগুলিকে ‘গণরোষ’ বলেই ব্যাখ্যা করছে। তৃণমূলের পাল্টা অভিযোগ, গণরোষের আড়ালে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কালীঘাটপন্থী নেতা কুণাল ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, আদালত যদি এমন মন্তব্য করে থাকে, তা হলে একজন সাংসদ নিজের নিরাপত্তার উদ্বেগ কোথায় জানাবেন, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়। তাঁর অভিযোগ, প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত নিরাপত্তা পাচ্ছেন না মহুয়া।






