রাজ্যের খবর

ওড়িশায় বাংলার শ্রমিক আটক কেন? শমীকের গাড়ি ঘিরে ‘গো-ব্যাক’ স্লোগান

“ভালো করেছে!” বিক্ষোভের মুখে পড়ে কেন এমন রহস্যময় জবাব দিলেন শমীক ভট্টাচার্য?

Truth of Bengal: মালদার হরিশ্চন্দ্রপুরে প্রার্থীর সমর্থনে জনসভায় যাওয়ার পথে নজিরবিহীন বিক্ষোভের মুখে পড়লেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। বুধবার বিকেলে হরিশ্চন্দ্রপুর বাসস্ট্যান্ডের কাছে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে লাঠি উঁচিয়ে তেড়ে যেতে হয়। এমনকি বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে মেজাজ হারিয়ে ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দিতে দেখা যায় বিজেপি নেতা পবন চক্রবর্তীকেও।

ঘটনার সূত্রপাত হয় বুধবার বিকেলে। প্রথমে কপ্টারে করে চাঁচল বিধানসভার বড়ুই হাইস্কুল সংলগ্ন ময়দানে জনসভা শেষ করেন শমীক ভট্টাচার্য। এরপর সেখান থেকে সড়কপথে গাড়ি করে হরিশ্চন্দ্রপুরের দিকে রওনা দেন তিনি। বাসস্ট্যান্ডের কাছে পৌঁছাতেই একদল তৃণমূল কর্মী-সমর্থক তাঁর গাড়ি ঘিরে ধরে কালো পতাকা দেখাতে শুরু করেন এবং গো-ব্যাক স্লোগান দেন। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি শাসিত ওড়িশায় বাংলার হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকার ১৭ জন পরিযায়ী শ্রমিককে অন্যায়ভাবে আটকে রাখা হয়েছে। অথচ বাংলার বিজেপি নেতারা এই বিষয়ে সম্পূর্ণ নীরব। সেই প্রতিবাদেই এদিন রাজ্য সভাপতিকে আটকানো হয়েছে বলে দাবি ঘাসফুল শিবিরের।

বিক্ষোভের মুখে পড়ে মেজাজ হারাতে দেখা যায় গেরুয়া শিবিরের স্থানীয় নেতাদের। বিজেপির উত্তর মালদা জেলা কমিটির সদস্য পবন চক্রবর্তী পুলিশকে আঙুল উঁচিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “পুলিশের সামনে এই গুন্ডামি চলছে অথচ প্রশাসন চুপ! আমরাও দেখে নেব এর শেষ কোথায়।” যদিও এই উত্তেজনা নিয়ে সরাসরি কোনও দীর্ঘ মন্তব্য করতে চাননি শমীক ভট্টাচার্য। সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে তিনি কেবল এক লাইনে দায় সারেন- “ভাল করেছে!”

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মালদার রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে। বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু তৃণমূলের এই বিক্ষোভকে ‘ভয়’ হিসেবেই দেখছেন। তাঁর দাবি, “তৃণমূল পায়ের তলায় মাটি হারিয়েছে, তাই রাজ্য সভাপতির সভায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে। মানুষ ব্যালটেই এর জবাব দেবে।” পাল্টা তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, শ্রমিকদের স্বার্থে এই লড়াই চলবে। ভোটের মুখে পরিযায়ী শ্রমিকদের ইস্যু এবং রাজ্য সভাপতির গাড়ি আটকানোর এই ঘটনা মালদার নির্বাচনী সমীকরণকে এক অন্য মাত্রা এনে দিল।